Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার ভোট এলেই রাজনীতির মঞ্চে ফিরে আসেন বাঙালির মনীষীরা (Narendra Modi)। কখনও রবীন্দ্রনাথ, কখনও নেতাজি, কখনও বঙ্কিমচন্দ্র আর এ বার ফের আলোচনার কেন্দ্রে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে হুগলির সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া শুধু সৌজন্য বিনিময়ের ঘটনা নয়, বরং তার গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক স্মৃতি, বিতর্ক এবং কৌশল।

২০১৯: বিদ্যাসাগর-মূর্তি ভাঙার ক্ষত (Narendra Modi)
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় কলকাতার বিধান সরণিতে অমিত শাহের রোড শোকে কেন্দ্র করে যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে, তা আজও বঙ্গরাজনীতিতে একটি গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপি সমর্থকদের একাংশ বিদ্যাসাগর কলেজ চত্বরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষমূর্তি আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে। বাঙালি সমাজের কাছে বিদ্যাসাগর শুধুমাত্র একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নন তিনি যুক্তিবাদ, সমাজসংস্কার এবং মানবিকতার প্রতীক। ফলে এই ঘটনায় রাজনৈতিক সীমা ছাড়িয়ে সাংস্কৃতিক আঘাত লেগেছিল।
‘বাংলাবিরোধী’ তকমা (Narendra Modi)
এই ঘটনার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাংলাবিরোধী’ রাজনীতির অভিযোগকে ধারালো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বারবার বলা হয়েছে— বিজেপি বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি এবং মনীষীদের সম্মান করে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সময়কার মন্তব্য “আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী” বাঙালি আবেগকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এই ভাষ্যই তৃণমূলের রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বিজেপির পালটা ব্যাখ্যা (Narendra Modi)
বিজেপি অবশ্য প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসই প্রথমে ইট ছুড়ে অশান্তি শুরু করে এবং পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। কিন্তু রাজনৈতিক দায় এড়ানোর এই ব্যাখ্যা বাঙালি জনমানসে খুব একটা জায়গা করে নিতে পারেনি। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ছবি ও ভিডিও রাজনীতির বাইরেও একটি সাংস্কৃতিক স্মৃতি হয়ে গিয়েছে।
বিদ্যাসাগর-প্রতিকৃতির বার্তা (Narendra Modi)
এই প্রেক্ষাপটেই সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতি তুলে দেওয়ার ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছে, ‘বাংলার সংস্কৃতিবিরোধী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে। মোদির প্রায় প্রতিটি বাংলা সফরে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখ সেই কৌশলেরই অংশ। বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতি উপহার সেই প্রচেষ্টার প্রতীকী শীর্ষবিন্দু।
বাঙালি অস্মিতা বনাম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি (Narendra Modi)
তৃণমূলের রাজনীতি মূলত ‘বাঙালি অস্মিতা’কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। অন্যদিকে বিজেপি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’ থেকে শুরু করে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতি সবই সেই সমীকরণ তৈরির কৌশল। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় প্রতিকৃতি উপহার দিলেই কি অতীতের ঘটনার দায় মুছে যায়?

আরও পড়ুন: Narendra Modi: মোদির সিঙ্গুর সভা কি ছাব্বিশের ভোটের টার্নিং পয়েন্ট!
২০২৬-এর আগে নতুন পুরনো স্মৃতির লড়াই
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বিদ্যাসাগরের ‘ফিরে আসা’ আসলে স্মৃতির রাজনীতিকে নতুন করে উসকে দিল। তৃণমূল এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলতে চাইবে, আর বিজেপি চেষ্টা করবে অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন বয়ান তৈরি করতে। বিদ্যাসাগর এখানে ব্যক্তি নন, তিনি প্রতীক যুক্তিবাদী, প্রগতিশীল বাঙালিত্বের প্রতীক।



