Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৬ তারিখ কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন এই ঘোষণা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে (Abhishek Banerjee)। যে জায়গায় একসময় অনশন করে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিলেন, ঠিক সেই স্থানেই আবারও আন্দোলনের মঞ্চ তৈরি করছেন তিনি। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক বিতর্ক নয় বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন।

প্রশ্নের মুখে নির্বাচন প্রক্রিয়া (Abhishek Banerjee)
অভিষেকের মূল অভিযোগ ঘিরে রয়েছে ভোটার তালিকার ‘Under Adjudication’ বা বিচারাধীন চিহ্নিতকরণ। তাঁর দাবি, বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘Under Adjudication’ দেখানো হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন যাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তাঁদের কেস নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে নিষ্পত্তি করা কীভাবে সম্ভব? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ৬০ লক্ষের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকে এবং প্রায় ৫০০ বিচারিক আধিকারিক তা নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকেন, তাহলে অতি অল্প সময়ে সব কেস মেটানো বাস্তবসম্মত নয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কীভাবে এই প্রশ্নই সামনে আনেন তিনি।
সংখ্যা-তত্ত্ব ও ‘টার্গেট’ রাজনীতি (Abhishek Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যায়, পরে শুনানির পর আরও ৬ লক্ষ বাদ পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ ৬০ হাজার ‘Under Adjudication’ কেস। সব মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লক্ষ। তাঁর অভিযোগ, এই বিশাল সংখ্যার পেছনে রয়েছে পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক লক্ষ্য। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি নেতারা আগেই একটি ‘টার্গেট’ ঠিক করেছিলেন, এবং সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই তথাকথিত ‘Logical Discrepancy’ তৈরি করা হয়েছে। এই ‘Logical Discrepancy’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক অসঙ্গতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রিত্বও Under Adjudication হওয়া উচিত’ (Abhishek Banerjee)
অভিষেকের বক্তব্যে ছিল তীব্র রাজনৈতিক ব্যঙ্গও। তিনি বলেন, “যাঁদের আপনারা ‘Under Adjudication’ রেখেছেন, তাঁরাই ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রের সরকারকে ‘Under Adjudicate’ করবে।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, যদি সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে এত প্রশ্ন ওঠে, তবে প্রধানমন্ত্রীর পদও ‘Under Adjudication’ থাকা উচিত। তাঁর এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে।
বিশ্বকাপ, নোবেল ও প্রতীকী প্রশ্ন (Abhishek Banerjee)
অভিষেক তাঁর বক্তব্যে উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ-কে ‘Under Adjudication’ দেখানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “তা হলে বিশ্বকাপটাই তো ‘Under Adjudication’!” একইভাবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-কেও শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন “তা হলে নোবেল পুরস্কারও কি ‘Under Adjudication’?” এই উদাহরণগুলির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে সম্মানিত নাগরিকদেরও অযথা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় গুরুতর অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
অভিষেক জানান, ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচিতে তিনি ২৪৩ জনের ফোন পেয়েছেন, যাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, কারণ এটি সরাসরি নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার হরণের ইঙ্গিত দেয়। এমন পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর আস্থা নষ্ট করতে পারে এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতেই নানা অসঙ্গতি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা।



