Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দিল উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (Estonian Airspace Violation) নেটো (NATO)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জোটভুক্ত ৩২টি সদস্যদেশ জানিয়ে দিয়েছে— আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের রক্ষা করতে এবং যে কোনও হুমকির মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক ও অসামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনেই উত্তেজনার সূত্রপাত
গত সপ্তাহে তিনটি রুশ মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান অনুমতি ছাড়াই ফিনল্যান্ড উপসাগরের উপর দিয়ে প্রবেশ করে এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় (Estonian Airspace Violation)। নেটোভুক্ত এস্তোনিয়া সঙ্গে সঙ্গেই জোটের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানায়। এরপরেই বিষয়টি পর্যালোচনা করে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিল নেটো।
এই প্রথম নয়, এর আগে পোল্যান্ড, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং ফিনল্যান্ডও একই ধরনের অভিযোগ করেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। পোল্যান্ড তো দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া তিনটি রুশ ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়েছে। ফলে ঘটনাপ্রবাহ রাশিয়া-নেটো উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
নেটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কড়া নজর (Estonian Airspace Violation)
রাশিয়ার এই পদক্ষেপের জবাব দিতে ইতিমধ্যেই ইটালি, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন তাদের যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে পূর্ব সীমান্তে (Estonian Airspace Violation)। এগুলি মোতায়েন করা হয়েছে নেটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা মিশনের অংশ হিসাবে।
নেটো স্পষ্ট করেছে—
“যে কোনও সদস্যদেশের নিরাপত্তা লঙ্ঘন মানে গোটা জোটের নিরাপত্তা লঙ্ঘন।”
অতএব এ ধরনের ঘটনায় প্রতিরক্ষা জোরদার করা এবং পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: Bagram Airbase in Afghanistan : কেন আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনর্দখল করতে চাইছেন ট্রাম্প ?
রাশিয়া-নেটো সম্পর্কের অবনতির নতুন অধ্যায়
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই নেটো ও রাশিয়ার সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে নেমেছে (Estonian Airspace Violation)। বিশেষত ফিনল্যান্ড ও সুইডেন নেটোর সদস্যপদ পাওয়ার পর মস্কোর অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা কেবল কূটনৈতিক উত্তেজনাই নয়, সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেটোর সর্বশেষ যৌথ বিবৃতি কার্যত রাশিয়াকে “শেষ সতর্কবার্তা”।
পূর্ব ইউরোপে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা
রাশিয়া যদি ভবিষ্যতেও নেটোভুক্ত দেশগুলির আকাশসীমা বা সীমান্ত লঙ্ঘন করে, তবে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে (Estonian Airspace Violation)। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেই বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, মস্কো এখনও এস্তোনিয়ার অভিযোগ স্বীকার করেনি। বরং তারা বলছে, নিয়মিত মহড়ার সময় ভুলবশত বিমান সীমান্ত ঘেঁষে চলে যায়। তবে নেটোর হুঁশিয়ারির পর এবার রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাই আন্তর্জাতিক মহলের নজরে।
এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে নেটোর সর্বশেষ অবস্থান কেবল রাশিয়ার জন্যই নয়, গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। একদিকে রাশিয়ার আগ্রাসন, অন্যদিকে নেটোর প্রতিরক্ষা জোরদার— পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা সময়ই বলবে।


