Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ইউরোপে নতুন করে যুদ্ধের (NATO on World War III) আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো (nato) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একাধিক দেশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে। সম্প্রতি নেটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট প্রকাশ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া ইউরোপের আরও একটি দেশে হামলা চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোল্যান্ড হতে পারে পুতিনের (Putin) পরবর্তী লক্ষ্য।
পোল্যান্ডকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা (NATO on World War III)
নেটোর শীর্ষ কর্তা ওয়ারশতে এক বিবৃতিতে বলেন, “যদি কেউ মনে করেন পোল্যান্ড বা অন্য কোনও নেটো রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে তারা ভুল হিসাব করছেন (NATO on World War III) । রাশিয়া যদি আগ্রাসন চালায়, তাহলে তাকে নেটোর সামগ্রিক শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।” পোল্যান্ডের মতো নেটোর সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সতর্কবার্তা (NATO on World War III)
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুতি ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনা কমিশনার হাদজা লাহবিব সম্প্রতি ইউরোপীয় নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জন্য খাদ্য, পানি এবং জরুরি ওষুধ মজুত করার নির্দেশ দিয়েছেন (NATO on World War III) । তাঁর বক্তব্য, “রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপ বর্তমানে বড় হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে। আমরা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে চাই।” তবে লাহবিবের এই সতর্কবার্তা ইউরোপের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ একে বাড়াবাড়ি বলছেন, আবার কেউ ভাবছেন, এটি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই। কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, “শুধু খাবার আর পানি নয়, কী পরিমাণ অস্ত্রও আমাদের কাছে মজুত রাখা উচিত?”

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও নেটো বিভক্তির সম্ভাবনা (NATO on World War III)
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও সফল হতে পারেননি (NATO on World War III) । তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার চেষ্টা করেছেন, তবে পুতিনের অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা এগোয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প নেটো ত্যাগের হুমকি দিয়েছেন, যা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ট্রাম্পকে নেটো থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ইউরোপে সামরিক ব্যয় কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই নেটো থেকে সরে আসে, তাহলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং রাশিয়ার সামনে তারা একা হয়ে যাবে। জার্মানি ইতিমধ্যে বৃহৎ সামরিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নিচ্ছে, অন্যদিকে পোল্যান্ড নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের দিকে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন: India Us Diplomacy: ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের স্বর্ণযুগের আভাস ট্রাম্পের! কী কী নতুন পরিকল্পনা?
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা কতটা বাস্তব?(NATO on World War III)
বিশ্ব রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে (NATO on World War III) । আজ ৮৬ বছর পর, আবারও পোল্যান্ডকে কেন্দ্র করেই নতুন যুদ্ধের ছায়া ঘনাচ্ছে। নেটোর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থাকায় এটি রাশিয়ার জন্য একটি বড় লক্ষ্য হতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই নেটো থেকে সরে যায়, তাহলে রাশিয়া ইউরোপের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করতে পারে।এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা বিশ্ব একত্রিত হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, নাকি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একাধিক দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত অবস্থান দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের সামনে আরেকটি বড় সংঘাত আসন্ন হতে পারে।


