Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু রহস্য ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় (Netaji Remains)। কয়েক দশক ধরে প্রশ্ন একটাই নেতাজির সত্যিই কি ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল? নাকি তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন? জাপানের টোকিওতে অবস্থিত রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্ম এই বিতর্কের কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এবার সেই বিতর্কে নতুন মোড় এনে দিলেন নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু।

চন্দ্র বসুর স্বীকারোক্তি (Netaji Remains)
একসময়ের বিজেপি নেতা তথা নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছেন যে, রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত দেহাবশেষ নেতাজিরই। এর মাধ্যমে কার্যত তিনি ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু (বর্তমান তাইপে) বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুতত্ত্বকেই স্বীকৃতি দিলেন। এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতদিন চন্দ্র বসু নিজেও নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তত্ত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এসেছেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তি নেতাজি বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর দাবি (Netaji Remains)
চন্দ্র বসু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে লেখা এক চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন, নেতাজির চিতাভস্ম ভারতবর্ষে ফিরিয়ে এনে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হোক। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আজাদ হিন্দ সরকারের ৮০ বছর পূর্তি সদ্য উদযাপিত হয়েছে এবং দিল্লিতে আইএনএ-র নামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কথাও শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর দাবি, নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের আত্মত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে আরও দৃঢ় উদ্যোগ প্রয়োজন।
আগের আবেদন ও সরকারের নীরবতা (Netaji Remains)
চন্দ্র বসু তাঁর চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রাক্তন সদস্যরা, নেতাজির কন্যা অনিতা বসু পাফ, এবং বসু পরিবারের একাধিক সদস্য, এর আগেও বহুবার ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রেনকোজি মন্দিরের চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর জন্য। কিন্তু সেই আবেদনগুলির কোনও স্থায়ী ফল এখনও পাওয়া যায়নি।
তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনা কি সত্যি? (Netaji Remains)
নেতাজির মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্টের কথিত বিমান দুর্ঘটনা। অনেক গবেষক ও নেতাজি অনুগামীর দাবি, ১৯৫৬ সালের তাইওয়ান রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সেদিন তাইহোকুতে কোনও বিমান দুর্ঘটনাই ঘটেনি, ভারত সরকার যে সাক্ষীদের নাম প্রকাশ করেছিল, তাঁরা পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন এই কারণেই বহু মানুষ আজও বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব মানতে নারাজ।
অনিতা বসু পাফের দীর্ঘদিনের অবস্থান (Netaji Remains)
নেতাজির কন্যা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অনিতা বসু পাফ বহু বছর ধরেই দাবি করে আসছেন, রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্ম নিঃসন্দেহে নেতাজিরই। তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ওই চিতাভস্ম থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। তাঁর মতে, এতে করে যাঁরা এখনও সন্দেহ পোষণ করেন, তাঁদের সব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন:Vaibhav Sooryavanshi: বৈভবকে বিশেষ সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুপ্রেরণার বার্তা
চন্দ্র বসুর কণ্ঠে অনিতার সুর
এবার অনিতা বসু পাফের সেই বক্তব্যের সঙ্গেই কার্যত সুর মিলিয়েছেন চন্দ্র বসু। নেতাজি পরিবারের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের এই অভিন্ন অবস্থান নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার এই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা শুধু একটি পারিবারিক দাবি পূরণ নয়, বরং তা হবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক অসমাপ্ত অধ্যায়কে সম্মানজনক পরিসমাপ্তিতে পৌঁছে দেওয়া।



