Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর পর দক্ষিণবঙ্গ যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক (North Bengal Weather) হচ্ছে, ঠিক তখনই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে উত্তরবঙ্গ। টানা বৃষ্টিতে ধস, বন্যা, রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একাধিক জায়গায়। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দার্জিলিং, মিরিক, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। প্রশাসন জানিয়েছে, রাজ্যের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর (North Bengal Weather)
দার্জিলিংয়ের মিরিক এলাকায় ধসের ফলে মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর (North Bengal Weather)। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতি বিবেচনায় GTA (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) পর্যটন কেন্দ্রগুলি আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কারণ দুধিয়া এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়েছে।
সব জায়গাই জলের নিচে (North Bengal Weather)
রাস্তায় ধস নামায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের রোহিণী (North Bengal Weather) রোড ও শিলিগুড়ি-কালিম্পং সড়ক। জাতীয় সড়ক ১০ ও ৩১-এর একাধিক অংশ এখন কার্যত নদীতে পরিণত। শুধু পাহাড় নয়, সমতলেও ভয়াবহ অবস্থা। কোচবিহার, মাথাভাঙা, ধূপগুড়ি, বানারহাট এবং দিনহাটা -সব জায়গাই জলের নিচে। রাস্তা, ঘরবাড়ি, এমনকি থানাও জলমগ্ন।

জলবন্দি ২০০টি পরিবার (North Bengal Weather)
নাগরকাটায় প্রায় ২০০টি পরিবার এখনো (North Bengal Weather) জলবন্দি। স্থানীয় থানা ও ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে নদীর ফুলে ওঠা জল। গজলডোবা ব্যারেজ থেকে বিপজ্জনক হারে জল ছাড়া হয়েছে তিস্তা নদীতে, ফলে জলস্তর দ্রুত বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং সেচ দফতর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: Darjeeling Landslide: ভেঙে পড়ল মিরিকের সেতু, দার্জিলিং-সিকিম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন!
২৪ ঘণ্টায় কোচবিহারে রেকর্ড ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি
কোচবিহার শহরের রাসমেলা মাঠ সংলগ্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত জলমগ্ন। নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহারে রেকর্ড ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জল নামবে বলে আশা করা হলেও, বাস্তবে এখনও জল সরানোর দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
আরও পড়ুন: Weather Report: নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তরে দুর্যোগ, দক্ষিণে সাময়িক স্বস্তি!
রেল পরিষেবাও ব্যাহত। ডুয়ার্সের বিভিন্ন ট্রেন ঘুরপথে চালানো হচ্ছে, কিছু বাতিল করার পরিকল্পনাও চলছে। এই ভয়াবহ দুর্যোগে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকরা প্রবল দুশ্চিন্তায়। কোথাও ওষুধ কেনা সম্ভব নয়, কোথাও বাজারঘাট বন্ধ। প্রবল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সবাই। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টাও স্বস্তি মিলবে না। সতর্কতা জারি রেখেই কাজ করছে প্রশাসন। নদী সংলগ্ন এলাকা ও জলমগ্ন ঘর থেকে দ্রুত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।


