Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্বের বহু দেশে (Oil Price)। গত ছয় দিন ধরে চলা সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় অর্থনীতিতেও এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে তেল-গ্যাসের দাম বাড়া, পেট্রোপণ্যের ঘাটতি এবং কালোবাজারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার। কোনও পরিস্থিতিতেই দেশের বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যেন হঠাৎ করে না বাড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি (Oil Price)
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে তেলের দাম। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব সাধারণত দেশীয় বাজারেও পড়ে। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এই আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ (Oil Price)
ভারতের জন্য অন্যতম বড় চিন্তার কারণ ছিল হরমুজ প্রণালী। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে থাকে। ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই। দেশের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক তেল আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমান সংঘাতের কারণে এই প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদি এই পথ দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে এমন সম্ভাবনাই সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

কূটনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় নয়াদিল্লি (Oil Price)
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার কূটনৈতিক স্তরে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যোগান যাতে ব্যাহত না হয় এবং ভারতের জন্য তেল আমদানির পথ খোলা থাকে, সেই লক্ষ্যেই একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। সূত্রের দাবি, এই আলোচনার ফলেই ভারতের জন্য বিকল্প সরবরাহের পথও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে এখনও পেট্রোপণ্যের দাম বাড়া বা না বাড়া নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে ইঙ্গিত মিলছে, সরকার চাইছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে।

আরও পড়ুন: Air India: আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর আনল এয়ার ইন্ডিয়া
রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিশেষ সুযোগ
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে। জানা গিয়েছে, খুব শিগগিরই প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল ভারতের হাতে পৌঁছতে চলেছে। এর পাশাপাশি আগামী এক মাসে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কারণ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে জাহাজে থাকা রুশ তেল কিনতে পারবে ভারত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



