Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু-কাশ্মীরের অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি উপত্যকা পহেলগাম যা পর্যটকদের কাছে স্বর্গসম সেই শান্ত পরিবেশেই আচমকা নেমে এল ভয়াবহ বিপর্যয় (Pahalgam)। মঙ্গলবার ভোরে লারি পোরা এলাকায় ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে একাধিক হোটেল। প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝেই যেন ধ্বংসের আগুন ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্কের আবহ।
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আগুনের লেলিহান শিখা (Pahalgam)
মঙ্গলবার ভোরের দিকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয় লারি পোরা এলাকার একটি হোটেলে। প্রথমে ধোঁয়া দেখা গেলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে হোটেলের একাধিক অংশ। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দমকলকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় একাধিক দমকল ইঞ্জিন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনগুলিতেও।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণ (Pahalgam)
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করতে হয়েছে। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জল সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দমকল আধিকারিক মনজ়ুর আহমেদের কথায়, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে একটি হোটেলের দুই থেকে তিনটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবুও নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ (Pahalgam)
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আগুন লাগার পর পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন হোটেলের ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হয়। দমকল কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যেই কাজ করতে হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
একাধিক হোটেল ভস্মীভূত, কোটি টাকার ক্ষতি (Pahalgam)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত তিনটি হোটেলের বড় অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু ভব ন নয়, একটি গাড়িও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে আগুনে। হোটেলের ম্যানেজার উমর হুসেন জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের জন্য এটি এক বড় ধাক্কা।
এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের তথ্য নেই (Pahalgam)
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মাঝেও সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার ফলেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকল বিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিক বা অন্য কোনও কারণ সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি এবং কাঠের নির্মাণশৈলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
পর্যটন স্বর্গে আতঙ্কের ছায়া
জম্মু ও কাশ্মীর-এর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাম। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এই অগ্নিকাণ্ড শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পর্যটন শিল্পের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।



