Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার রাতে কাবুলের একটি বড় নেশামুক্তি কেন্দ্র ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হয় (Pakistan)। বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাসপাতালের একাধিক ভবন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫০ জন। এই হাসপাতালটি ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট সেন্টার ছিল হাজার হাজার রোগীর আশ্রয়স্থল। হামলার সময় প্রায় তিন হাজার রোগী সেখানে ভর্তি ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের দাবি বনাম তালিবানের অভিযোগ (Pakistan)
এই হামলাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে দায় স্বীকার ও উদ্দেশ্য নিয়ে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি ছিল একটি “নিখুঁত সামরিক অভিযান”, যেখানে তালিবান-সমর্থিত জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে তালিবান-এর মুখপাত্র হামদুল্লা ফিতরাত সরাসরি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে। এই দ্বন্দ্বপূর্ণ বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া (Pakistan)
এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারত কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে একে “কাপুরুষোচিত হামলা” বলে উল্লেখ করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। চিন অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতির আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানোম ঘেব্রেইয়েসুস সতর্ক করে বলেন, এভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হতে থাকলে আফগানিস্তানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ (Pakistan)
এই হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের। যুদ্ধক্ষেত্রে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রকে “সুরক্ষিত এলাকা” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। যদিও পাকিস্তান দাবি করছে যে লক্ষ্য ছিল জঙ্গিঘাঁটি, কিন্তু যদি প্রমাণ হয় যে বেসামরিক চিকিৎসাকেন্দ্রকে টার্গেট করা হয়েছে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধ।
যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে কি পরিস্থিতি? (Pakistan)
এই হামলার পর আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছেছে। তালিবান স্পষ্ট ভাষায় প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আগে থেকেই চলা সংঘর্ষ এখন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা। পাকিস্তান “অপারেশন গজ়ব লিল হক” নামের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য আফগান মাটিতে থাকা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে ধ্বংস করা। কিন্তু এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর মারাত্মক প্রভাব
গত কয়েক সপ্তাহে আফগানিস্তানের একাধিক হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে পারে।



