Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আবারও জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান (PakistanBlast)। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলার ডোমেল থানায় একটি আত্মঘাতী গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন পুলিশ কর্মীসহ আরও অনেকে, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই হামলা? (Pakistan Blast)
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের অন্ধকারে আচমকাই একটি গাড়ি থানার দিকে ছুটে যায় এবং দেওয়ালে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে, এবং কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, বিস্ফোরণে থানা ভবন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আশপাশের বাড়ি ও দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হতাহতদের অবস্থা (Pakistan Blast)
বিস্ফোরণের পরে এলোমেলো গুলির শব্দও শোনা যায়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি কে গুলি চালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। গুরুতর অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করার জন্য দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বিস্ফোরণের পর গুলির শব্দ (Pakistan Blast)
পুলিশ জানিয়েছে , নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন মহিলা, ১ শিশু এবং একটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি, যিনি সম্ভবত গাড়ি চালক। গুরুতর জখম চারজন পুলিশ সদস্যকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে তেহরিক-ই-তালিবান গোষ্ঠী সক্রিয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই হামলার পেছনে তাদের হাত থাকতে পারে, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
জঙ্গি যোগের আশঙ্কা (Pakistan Blast)
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রেক্ষাপট উদ্বেগজনক। গত বছরের শেষ দিকে ইসলামাবাদের একটি আদালতের সামনে গাড়ি বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হন এবং ২০ এর বেশি আহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই ফের একই ধরনের হামলা ঘটল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পুনরাবৃত্তি হামলা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
ধারাবাহিক হামলা, বাড়ছে উদ্বেগ
ঘটনার পর বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হলেও উদ্ধারকাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের আত্মঘাতী হামলা সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয়কে লক্ষ্য করে। জঙ্গিরা এই হামলার মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টি করতে চায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি প্রস্তুতি আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



