Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন ভূরাজনৈতিক অধ্যায় রচনা করল পাকিস্তান ও সৌদি আরব (Pakistan Defence Deal)। ইসলামাবাদ ও রিয়াধ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে, যা নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার মানচিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভারতের কূটনৈতিক কৌশলেও নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
চুক্তির মূল দিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি (Pakistan Defence Deal)
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমান যৌথভাবে চুক্তিতে সই করেছেন(Pakistan Defence Deal)। শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলির মধ্যে কোনও একটি দেশ যদি বাইরের আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে তা উভয়ের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে দু’দেশ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তির দরজা অন্য দেশগুলির জন্যও খোলা। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে আরব বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশও এতে যুক্ত হতে পারে।
পাকিস্তানের অবস্থান পারমাণবিক প্রশ্নে সতর্ক বার্তা (Pakistan Defence Deal)
সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানের কাছে যে অস্ত্রভান্ডার রয়েছে, চুক্তির অধীনে প্রয়োজনে তার সবটাই ব্যবহার করা সম্ভব(Pakistan Defence Deal)। তবে পরমাণু অস্ত্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইসলামাবাদ দায়িত্বশীল এবং কোনও অযৌক্তিক পরিস্থিতিতে এই অস্ত্র ব্যবহার করবে না।
তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানকে সঙ্গে পাওয়া সৌদি আরবের সামরিক ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় বার্তা দেবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের, বিশেষত ইজরায়েলকে।

আরও পড়ুন : India China Conflict : ১৯৬২-র পরাজয়ে বিস্মৃত চিনের বিরুদ্ধে ভারতের নাথু লা ও চো লা যুদ্ধের জয়ের কাহিনি
ইজরায়েল-ফিলিস্তিন প্রেক্ষাপট গোপন বার্তা?
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কাতার হামলার পরেই সৌদি ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোটের তাৎপর্য বেড়ে যায়(Pakistan Defence Deal)। মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি না হলেও এই চুক্তি একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য পরিষ্কার জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট দেশকে নিশানা করে এই চুক্তি হয়নি। মূল লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
ভারতের প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক সতর্কতা(Pakistan Defence Deal)
চুক্তি ঘোষণার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নয়াদিল্লি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে(Pakistan Defence Deal)।
যদিও সৌদি আরব সতর্ক সুরে বলেছে, তারা ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Air Force Chief : রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার উপায় বললেন ভারতের বায়ু সেনা প্রধান এপি সিং
আঞ্চলিক প্রভাব নতুন মেরুকরণ?(Pakistan Defence Deal)
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই চুক্তি মুসলিমপ্রধান দেশগুলির মধ্যে নতুন ঐক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে(Pakistan Defence Deal)। পাকিস্তান যদি অন্য আরব দেশগুলিকে সঙ্গে টানতে সক্ষম হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মেরুকরণ আরও তীব্র হতে পারে। ভারতের জন্য এটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে নয়াদিল্লির অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তি আপাতত দ্বিপাক্ষিক হলেও এর ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক রাজনীতিকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভারতের উদ্বেগ এখানেই যে, পাকিস্তানের নেতৃত্বে যদি একাধিক মুসলিমপ্রধান দেশ প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়, তবে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। তবে সৌদি আরবের কূটনৈতিক বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার ঝুঁকি তারা নিতে চাইবে না। এখন দেখার, এই চুক্তি ভবিষ্যতে সহযোগিতার হাতিয়ার হয় নাকি নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।


