Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় (Pakistan)। অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকা ও ইজরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির তরফে স্পষ্ট ও সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবু মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে প্রবলভাবে। খামেনেই শুধু ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান নন, তিনি ছিলেন একটি মতাদর্শের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে ইরান পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। ফলে তাঁর মৃত্যুকে অনেকেই শুধুমাত্র একটি সামরিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আঘাত হিসেবেই দেখছেন।

পাকিস্তানে ক্ষোভের বিস্ফোরণ (Pakistan)
খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে করাচি-তে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ওয়াশিংটন ও তেল আভিভের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং কনসুলেটের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথমে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভেঙে জনতা এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১২০ জন। এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
অগ্নিগর্ভ অন্যান্য শহর (Pakistan)
শুধু করাচি নয়, পেশোয়ার, লাহোর এবং পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান-সহ একাধিক শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লাহোরে মার্কিন কনসুলেটের কাছেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং কূটনৈতিক এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আধাসামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।

কূটনৈতিক নীরবতা (Pakistan)
ঘটনার পর পাকিস্তান বা আমেরিকার তরফে তৎক্ষণাৎ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে এই সংঘাত কি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে? বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যাই নয়; এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব যে দক্ষিণ এশিয়ার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলেও পড়তে পারে, তার স্পষ্ট উদাহরণ এই পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের প্রশ্ন
বিক্ষোভ দমনে গুলিচালনার ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের মাত্রা ও পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও তা সহিংসতায় রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই পাকিস্তান সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।



