Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাজেট অধিবেশন (Parliament) । তার আগেই সাংসদদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করলেন লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভবনে এসে শুধু রেজিস্টার খাতায় সই করা বা লবিতে ডিজিটাল ডিভাইসে ‘প্রক্সি হাজিরা’ দিলেই আর চলবে না। অধিবেশন কক্ষে নিজের নির্দিষ্ট আসনে বসেই সাংসদদের উপস্থিতি জানাতে হবে। তা না হলে সংসদে উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ‘গরহাজির’ হিসেবেই গণ্য করা হবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও অর্থবহ করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে উঠল (Parliament)
বর্তমানে সংসদে উপস্থিতি নথিভুক্ত করার যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তাতে সাংসদরা অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই রেজিস্টারে সই করে বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে সংসদ ভবন ছেড়ে চলে যেতে পারেন (Parliament) । অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, তাঁরা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশই করেন না, আলোচনায় অংশ নেন না, অথচ কাগজে-কলমে উপস্থিত হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যান। এই প্রবণতা সংসদের কার্যকারিতা ও মর্যাদার উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়া গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী এই উপলব্ধি থেকেই নিয়মে বদল আনা হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেছেন স্পিকার।
শৃঙ্খলা ও সক্রিয়তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য (Parliament)
লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ৮৬তম অল ইন্ডিয়া প্রিসাইডিং অফিসার্স সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওম বিড়লা জানান, সংসদের কাজকর্মে সাংসদদের উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, সংসদ কোনও আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জায়গা নয়, এটি বিতর্ক, আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ মঞ্চ। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সাংসদদের শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, অধিবেশন কক্ষে নিয়মিত বসে আলোচনায় অংশ নেওয়াও কার্যত বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে।

গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি (Parliament)
গণতন্ত্র কেবল ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; গণতন্ত্র বাঁচে যুক্তিনিষ্ঠ বিতর্কে, তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে। সংসদ সেই বিতর্কের প্রধান ক্ষেত্র। কিন্তু বাস্তবে বহু সময় সংসদ অধিবেশন ফাঁকা বেঞ্চ, অনুপস্থিত সাংসদ এবং আলোচনায় অনীহার ছবিই তুলে ধরে। ভোটে জিতে সংসদে পৌঁছনোই যদি গণতান্ত্রিক দায়িত্বের শেষ ধাপ হয়, তবে তা গণতন্ত্রের প্রতি অবিচার। জনগণ তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন কেবল হাত তোলার জন্য নয়, বরং তাঁদের হয়ে কথা বলার জন্য, প্রশ্ন তোলার জন্য, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য।
‘প্রক্সি হাজিরা’র অবসান
নতুন হাজিরা-নিয়ম অনেকের কাছে প্রতীকী পরিবর্তন মনে হতে পারে, কিন্তু এর রাজনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। স্কুলের ক্লাসের মতো সংসদেও এবার নিজের আসনে বসেই ‘উপস্থিত’ বলতে হবে এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সংসদে হাজিরা মানেই দায়িত্ব, দায়বদ্ধতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ। এতে সাংসদদের উপর নৈতিক চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই সংসদের কাজকর্মে গুণগত মানও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



