Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরাখণ্ড সরকারের চারধাম যাত্রায় বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ও ন্যূনতম ১০ টাকার ফি ধার্যের প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক (Char Dham Yatra)। বহু মানুষ এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন, আবার বিরোধী শিবির একে ধর্মীয় করের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তুলছে। আস্থা, রাজনীতি ও প্রশাসনিক বাস্তবতার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে বিষয়টি এখন বহুমাত্রিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

চারধাম যাত্রার আধ্যাত্মিক (Char Dham Yatra)
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে চারধাম যাত্রা অত্যন্ত পবিত্র তীর্থযাত্রা। উত্তরাখণ্ডের গড়ওয়াল হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত চারটি তীর্থ, যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ এই চারধামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরম্পরা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে এই তীর্থযাত্রায় অংশ নেন। সাধারণত এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু হয় এবং বর্ষার আগে পর্যন্ত চলে।
বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ও ফি (Char Dham Yatra)
সরকারি বৈঠকে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার থেকে চারধাম যাত্রায় অংশ নিতে হলে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে। সেই রেজিস্ট্রেশনের জন্য ন্যূনতম ১০ টাকা ফি ধার্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই ফি কোনও কর নয়। বরং এটি প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং যাত্রী সুরক্ষার খরচ মেটাতে একটি প্রতীকী অর্থ। বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন ও দালালচক্র সক্রিয় থাকায় প্রকৃত তীর্থযাত্রীরা সমস্যায় পড়ছিলেন। সেই সমস্যার সমাধানেই এই পদক্ষেপ।

নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ (Char Dham Yatra)
চারধাম যাত্রায় গত এক দশকে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, ভূমিধস, অতিরিক্ত ভিড় সব মিলিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বও বেড়েছে। ২০১৩ সালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বিশেষত কেদারনাথ অঞ্চলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা, প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সঠিক তথ্যভাণ্ডার থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা দেওয়া সহজ হয়। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন সেই দিক থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে সরকার।
‘জিজিয়া’র তুলনা কেন? (Char Dham Yatra)
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তকে মুঘল আমলের ‘জিজিয়া’ করের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় আস্থাকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায় করা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও ১০ টাকা সামান্য পরিমাণ, কিন্তু নীতিগতভাবে ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় ফি আরোপের নজির তৈরি হচ্ছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। তবে ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জিজিয়া ছিল অমুসলিমদের উপর আরোপিত একটি ধর্মভিত্তিক কর। বর্তমান প্রস্তাবিত ফি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এই পার্থক্যটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক প্রভাব (Char Dham Yatra)
চারধাম যাত্রা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, উত্তরাখণ্ডের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। হোটেল, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা সবকিছু এই তীর্থযাত্রার উপর নির্ভরশীল। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল হলে পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হতে পারে। তবে আশঙ্কা রয়েছে, ভবিষ্যতে যদি ফি বৃদ্ধি পায় বা প্রক্রিয়া জটিল হয়, তাহলে নিম্নআয়ের পুণ্যার্থীদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা জরুরি।
আরও পড়ুন: New Town: নিউ টাউনের অভিজাত আবাসনে ৩০০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত
আবেগ বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা
ধর্মীয় বিশ্বাস অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সেখানে সামান্য আর্থিক সিদ্ধান্তও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিতে পারে। একদিকে সরকারের দাবি এটি কেবলমাত্র সুশাসনের অংশ। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ এটি ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করছে। এই দ্বন্দ্ব দেখিয়ে দেয়, ধর্ম ও রাজনীতি ভারতের জনজীবনে কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।



