Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরান ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক (Petrol Price Hike) সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের তেল পরিশোধনাগারে ইজরায়েলের মিসাইল হামলা পরিস্থিতিকে তীব্র করে তুলেছে। তেহরানের তেল পরিশোধনাগারে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে, যেখানে প্রায় ৩০ কোটি লিটার তেল নষ্ট হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিশ্ব বাজারে গ্যাস সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে (Petrol Price Hike)
তেহরানের তেল পরিশোধনাগারে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান তার সাউথ (Petrol Price Hike) পার্স গ্যাস ফিল্ডেও সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এই গ্যাস ফিল্ডটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উৎস, যা ইরানের গ্যাস উৎপাদনের বড় অংশ সরবরাহ করে। ইরান থেকে দৈনিক প্রায় ১২ মিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপাদনে এই ক্ষতি বিশ্ব বাজারে গ্যাস সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইজরায়েলের তেলের ভাণ্ডারে হামলা (Petrol Price Hike)
অন্যদিকে, ইরানও প্রতিশোধ হিসেবে ইজরায়েলের তেলের ভাণ্ডারে হামলা (Petrol Price Hike) চালিয়েছে, যা তেলের বিপুল ক্ষতির কারণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, কারণ এই অঞ্চল থেকে অনেক দেশ তেল ও গ্যাস আমদানি করে থাকে। বিশেষ করে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো এ অঞ্চলের ওপর জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরশীল।
সরাসরি ভারতের বাজারে প্রভাব
ভারতে জ্বালানির চাহিদার ৯০ শতাংশ তেল এবং ৭০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তাই ইরান ও ইজরায়েলের এই সংঘাত সরাসরি ভারতের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। একদিনে ক্রুড ওয়েলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮.৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা এই বছরের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। ব্রেন্ট ওয়েলের দামও ১২.৫ শতাংশ বাড়ায় বাজারে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠতে পারে
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠতে পারে। এর ফলে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি মারাত্মক সংকটের কারণ হতে পারে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যাবে, যা দেশে অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়াবে।
তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে এবং তারা বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুত। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই সংকট ভারতের জ্বালানি সরবরাহে তেমন প্রভাব ফেলবে না। এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপরতা বাড়াতে বলা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে, এই সংঘাত দ্রুত মিটিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


