Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনিবার মাঝরাতের পর গোয়ার জনপ্রিয় পার্টি হাব আরপোরা গ্রামে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Goa Fire Tragedy)। ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইটক্লাবে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। পলকেই আনন্দের রাত পরিণত হয় মৃত্যুর বিভীষিকায়। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জনের, আহত প্রায় ৫০। গোয়া থেকে সারা দেশে বয়ে যায় শোকের স্রোত।

বিস্ফোরণ থেকে ভয়াবহ আগুন (Goa Fire Tragedy)
পানাজি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরপোরা গ্রামের এই জনপ্রিয় নাইটক্লাব শনিবার রাতে ছিল প্রায় ভর্তি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রান্নার জায়গা থেকে আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায়। তার পরেই দেখা যায় তীব্র লেলিহান শিখা। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্লাবজুড়ে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। ধোঁয়া ও তাপের তীব্রতায় বহু মানুষ বেরোনোর আগেই প্রাণ হারান।
আর্থিক সাহায্য ঘোষণা (Goa Fire Tragedy)

দেশবাসীর মতো এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স (X)-এ দেওয়া পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে বলেছেন ‘গভীর দুঃখজনক ও ট্র্যাজিক’। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “গোয়ার আরপোরায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাঁদের সকলের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক।” প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ প্রমোদ সাওয়ান্তের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম সহায়তা করছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে
- নিহতদের পরিবার প্রতি ২ লক্ষ টাকা
- আহতদের ৫০ হাজার টাকা
সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতির শোকবার্তা (Goa Fire Tragedy)
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকজ্ঞাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং লিখেছেন যে, এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলিকে শক্তি দিক ঈশ্বর। আহতদের দ্রুত সুস্থতারও কামনা করেছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের তৎপরতা (Goa Fire Tragedy)
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত আহতকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে যুদ্ধ footing-এ। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লিকেজের জেরে বিস্ফোরণ ঘটে।
পর্যটকদের আতঙ্ক (Goa Fire Tragedy)
আরপোরা এলাকা গোয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পার্টি ডেস্টিনেশন। প্রতিদিনের মতো শনিবারেও ছিল ভিড়। আগুনের পর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটকরা এবং উদ্ধারকারী কর্মীরা মিলে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে উদ্ধারকাজ চালান। অনেকের অভিযোগ, নাইটক্লাবটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না। জরুরি নির্গমন পথও পর্যাপ্ত ছিল না বলে দাবি।
আরও পড়ুন: Humayun Kabir: হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ তৈরির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট
দুর্ঘটনা নিয়ে উঠে আসছে প্রশ্ন
এই ভয়াবহ ঘটনার পর নাইটক্লাবগুলির নিরাপত্তাবিধি ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বহু বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমে নিরাপত্তায় আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন ছিল। সরকারি তদন্তে উঠে আসবে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং কার গাফিলতিতে এত বড় দুর্ঘটনা।



