Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী, কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে খড়্গপুর সদর কেন্দ্র এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক মঞ্চ (Pradip Sarkar)। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ সরকার তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে যেমন বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তেমনই তুলে ধরেছেন নিজের রাজনৈতিক যাত্রা, সাফল্য এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা

খড়্গপুরে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় (Pradip Sarkar)
প্রদীপ সরকারের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর। সেদিন তিনি খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এই জয় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই প্রথমবার খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রার্থী জয়লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রদীপ সরকারের জয় প্রমাণ করে যে, মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে মমতা ব্যানার্জী-এর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঘুরছে।
রাজনৈতিক যাত্রা থেকে জননেতা হয়ে ওঠা (Pradip Sarkar)
প্রদীপ সরকারের কথায়, তাঁর রাজনীতি শুধুমাত্র ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা বছর মানুষের পাশে থাকা, তাদের সমস্যা শোনা এবং সমাধান করার মধ্যেই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি খড়্গপুরে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেন, যা বহু বছর ধরে আটকে ছিল।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা (Pradip Sarkar)
কে টিভি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নেতৃত্বে এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় খড়্গপুরে এক নতুন উন্নয়নের ধারা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আগে খড়্গপুরে ICU বা ডায়ালিসিস সুবিধা ছিল না, এখন তা চালু হয়েছে, ইলেকট্রিক চুল্লি, স্টেডিয়াম, পার্ক সবই নতুন সংযোজন, শহরকে আলোকিত করতে ব্যাপক লাইটিং প্রকল্প করা হয়েছে, শ্মশান ও নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে তার কথায়, “যে উন্নয়ন ৪০ বছরে হয়নি, সেটা আমরা কয়েক বছরের মধ্যেই করেছি।”
বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র (Pradip Sarkar)
এই উন্নয়নের বিপরীতে তিনি তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ-এর বিরুদ্ধে। প্রদীপ সরকারের অভিযোগ, দিলীপ ঘোষ খড়্গপুরে বহু বছর দায়িত্বে থেকেও দৃশ্যমান কোনও উন্নয়ন করেননি, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করেন, স্থানীয় সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দেন না তিনি আরও বলেন, “মানুষ সব দেখেছে কে কাজ করেছে আর কে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ (Pradip Sarkar)
খড়্গপুর শহরের একটি বড় অংশ রেল এলাকার অন্তর্গত হওয়ায়, রেল ও রাজ্যের সমন্বয়ের অভাব নিয়ে তিনি সরব হন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রেলের বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বহু বছর ধরে পরিষ্কার না হওয়ায় জল জমে থাকে, উন্নয়নের কাজে বারবার NOC সমস্যায় পড়তে হয় এই সমস্যাগুলির সমাধানে তিনি ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
আধুনিক খড়্গপুরের স্বপ্ন (Pradip Sarkar)
প্রদীপ সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মিত পানি শোধন প্ল্যান্ট এর মাধ্যমে বিশুদ্ধ জল সরবরাহ, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, শহরের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন তিনি বলেন, “খড়্গপুরকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
“ঘরের ছেলে বনাম বাইরের নেতা”
তাঁর প্রচারের অন্যতম মূল স্লোগান, “খড়্গপুর ঘরের ছেলেকে চায়” এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ আর বাইরের নেতাদের ওপর ভরসা করতে চায় না। বরং এমন কাউকে চায়, যে সবসময় তাদের পাশে থাকে।



