Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মাত্র ১ রানে নিজেদের ঘরের মাঠে হারতে হলো দিল্লিকে (Prasidh Krishna)।
গুজরাটের রুদ্ধশ্বাস জয় (Prasidh Krishna)
গাড়ির চাকার এক্সট্রিম ক্লোজআপ শট, সিনেমার প্রথম দৃশ্যেই যেন বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা যে এই ইঁদুর দৌড় সহজে থামবে না। এরপর আসে মিড অ্যাঙ্গেলে গাড়ি ছুটে চলার দৃশ্য। হাতে লেখা একটা নোটের ক্লোজআপ শটও ব্যবহার করা হয় এই দৃশ্যে। সঙ্গে বাজতে থাকে উত্তেজনাপূর্ণ আবহ সংগীত। এমন টানটানভাবেই শুরু হতে থাকে একটি ক্লাসিক সিনেমার দৃশ্য (Prasidh Krishna)।
এই দৃশ্য যিনি নির্মাণ করেছেন তিনি আর কেউ নন ‘সাসপেন্সের মাস্টার’ হিসেবে খ্যাত আলফ্রেড হিচকক। এরপর থেকেই হিচকক মানেই উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য এবং এবং ক্লাইম্যাক্সে জোরালো ধাক্কা। যে ধাক্কা দর্শকদের নাড়িয়ে দিয়েছে বারবার। একরকম ভাবলেও শেষে গিয়ে রকম বদলে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে বেশ বেগ হত হয় সিনেমা বিশেষজ্ঞ এবং দর্শকদের। কীভাবে সম্ভব এই প্রশ্নের জন্ম নেয় সিনেমার শেষ দৃশ্যে। গুজরাট বনাম দিল্লির ম্যাচেও দর্শকদের এমনই অবস্থা। হিচককের কাছে সবাক সিনেমা যেমন অন্য মাত্রা পেয়েছে আর তেমনই এই মরশুমের আইপিএল-এ গুজরাট বনাম দিল্লির ম্যাচ দর্শকদের কিছুক্ষণের জন্য নির্বাক করে দিয়েছে। আর এই টানটান ম্যাচের নায়ক একদিকে যেমন প্রসিধ আর অন্যদিকে ট্র্যাজিক হিরো কেএল রাহুল (Prasidh Krishna)। একদিকে যেন হেক্টর আর অন্যদিকে দাঁড়িয়ে অ্যাকিলিস।
টানটান উত্তেজনার গল্পে কখন গল্পের প্লট বদলে যায় আবার কখন চরিত্র, সেটা আগে থেকে কেউ অনুমান করতে পারে না। ঠিক যেমন গতকালের ম্যাচে শেষ পাঁচ বল পাল্টে দেয় খেলার সমস্ত সমীকরণ। গিল, রাহুলকে ছাপিয়ে একটাই নাম বারবার উচ্চারিত হতে থাকে প্রসিধের নাম। শেষ ওভারে খেলার সম্পূর্ণ অভিমুখ পাল্টে যায় তাঁর বলে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের জয়ের জন্য যখন শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার তখন মোটামুটি সবাই ধরেই নিয়েছে যে ম্যাচ জিততে চলেছে দিল্লি। ২০ তম ওভারের প্রথম বলে ভিপরাজ চার হাঁকান প্রসিধকে। ৫ বলে ৯ রান বাকি। খেলা মোটামুটি নিজের রূপ স্থির করে ফেলেছে। যে সময় মনে হচ্ছে এই বোধহয় ক্লাইম্যাক্স শেষ হতে চলেছে তখনও যে টুইস্ট বাকি। দ্বিতীয় বলেই প্রসিধ ফিরিয়ে দেন ভিপরাজকে। এবার দিল্লির শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যেতে থাকে চিন্তার স্রোত। কুলদীপ এসে এক রান নেন তৃতীয় বলে। শেষ তিন বলে ৮ দরকার। এরপরেই ছয় আসে মিলারের ব্যাটে। শেষে দুই বলে দুই। পঞ্চম বল ডট। শেষ বলের আগে বহুক্ষণ শুভমনের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি (Prasidh Krishna)।

শেষে স্লো বল, সেটা বেশ উঁচুতে উঠে যায়। মিলার পুল করতে গিয়ে মিস করেন সেটা। কিন্তু দুজনেই রানের জন্য দৌড় শুরু করেন কুলদীপ নিজের উইকেট বাঁচাতে পারলেও মিলার পারেননি। ক্রিজে ঢোকার আগে স্ট্যাম্প ভাঙে তাঁর। তবে সেই বলতে ওয়াইড কিনা সেটা নিয়ে সংশয় ছিল তবে শেষ পর্যন্ত সেটাকে বৈধ বল হিসেবেই ঘোষণা করেন আম্পায়ার। ফলে শেষ বলেও কোনও রান আসেনি এবং এই টানটান ম্যাচ জিতে যায় গুজরাট। ১ রানে ম্যাচ যেতে গুজরাট (Prasidh Krishna)।
বুধবার, ৮ এপ্রিল টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে গুজরাট টাইটান্স। ওপেনিং জুটি জমে ওঠার আগে ১২ রানে ফেরেন সাই সুদর্শন। এরপর খেলার হাল ধরেন শুভমন গিল এবং বাটলার। এই ম্যাচে নিজের ফর্মে ফেরেন শুভমন গিল। চোটের কারণে রাজস্থানের বিরুদ্ধে না নামতে পারলেও এই ম্যাচে দুরন্ত কামব্যাক করেন গুজরাট অধিনায়ক। তিনি ৪৫ বলে ৭০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৪টি চার এবং ৫টি ছয়ে। এই হাফ সেঞ্চুরি শেষ ২০টি টি-২০ ম্যাচে প্রথম।

এর পাশাপাশি দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা পাল্লা দিয়ে করেন বাটলার। ২৭ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের স্কোর আরও এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। এরপর মাঠে নামেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩২ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ২০ ওভারের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে গুজরাটের স্কোর ২১০ রান। দিল্লির হয়ে মুকেশ কুমার নিয়েছেন দুটি উইকেট। কুলদীপ যাদব এবং লুঙ্গি এনগিডি নিয়েছেন একটি করে উইকেট (Prasidh Krishna)।

আরও পড়ুন: Matua: শাহকে রুটি-পায়েস খাইয়েও স্বপ্নভঙ্গ! সেই নবীন বিশ্বাসই এবার তৃণমূলের মিছিলে
রান তাড়া করতে নেমে পাথুম নিসঙ্কা এবং কেএল রাহুল দুজন মাইল শুরুটা দুরন্ত করেন।। ওপেনিং জুটিতে এই দুজন ব্যাটার ৪৯ বলে ৭৬ করে ফেলেন। নিসঙ্কা ৪১ রান করে ফেরেন কিন্তু তখন ক্রিজে রয়েছেন কেএল রাহুল। তিনি নিজের স্বমূর্তি ধারণ করেন। নীতিশ রানা এবং সমীর রিজভি যথাক্রমে ফেরেন ৫ এবং ০ রানে। তবে লড়াই চালিয়ে যান রাহুল। দলকে কীভাবে কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিতে হয় সেটা দেখিয়ে দিলেন রাহুল। মিলার রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরলে বাকি ব্যাটাররাও দলকে ভরসা দিতে ব্যর্থ হন।

কিন্তু রাহুলের ৫২ বলের ৯২ রানের ইনিংস প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইতে রাখে। যদি তাঁর সঙ্গে আর কোনও ব্যাটার সঙ্গ দিতেন তবে হয়ত ম্যাচের ছবি আলাদা হত। রাহুলের ইনিংসে রয়েছে ৪টি ছয় এবং ১১টি চার। এরপর আবার মিলার নামেন এবং ৩টি করে চার এবং ছয় মেরে অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে। নির্দিষ্ট ২০ ওভারের শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান করে দিল্লি। অবশেষে এক রানে ম্যাচ হেরে যায় দিল্লি। একদিকে জয়ের নায়ক প্রসিধ আর অন্যদিকে ট্র্যাজিক হিরো হিসেবেই থেকে গেল রাহুলের ইনিংস (Prasidh Krishna)।


