Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার বিকেলের বিষণ্ণ আলো যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছিল এক অপ্রত্যাশিত শোকসংবাদে (Rahul Arunoday Banerjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শেষযাত্রা ঘিরে যেমন ছিল আবেগের প্লাবন, তেমনই ছিল বিতর্ক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ। বিজয়গড় থেকে কেওড়াতলা পুরো পথটাই যেন হয়ে উঠেছিল এক আবেগঘন, অথচ অস্থির বিদায়ের কাহিনি।

শেষযাত্রার সূচনা (Rahul Arunoday Banerjee)
ঘড়িতে তখন বিকেল চারটে দশ। বিজয়গড় চত্বরে মানুষের ঢল নেমেছে। চোখের জলে, বুকভরা কষ্টে প্রিয় ‘বাবিন’-কে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। শববাহী গাড়িকে ঘিরে ছিলেন তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধুরা যারা শুধু অভিনেতা রাহুলকে নয়, মানুষ ‘রাহুল’-কে চিনতেন খুব কাছ থেকে। তাঁদের হাত ধরেই শুরু হয় শেষযাত্রা, গন্তব্য কেওড়াতলা মহাশ্মশান।
শ্মশানে পৌঁছেই বিশৃঙ্খলা (Rahul Arunoday Banerjee)
কেওড়াতলায় পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শোকের আবহে হঠাৎ করেই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। অভিযোগ ওঠে সাধারণ বন্ধুদের আটকে রাখা হচ্ছে, শুধুমাত্র সেলিব্রিটিদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাহুলের শৈশবের বন্ধুরা।

তারকাদের উপস্থিতি, তবুও বিতর্ক (Rahul Arunoday Banerjee)
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চুর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, রুকমা রায়, অঙ্কুশ হাজরা, রুদ্রনীল ঘোষ, ইন্দ্রাশীস আচার্য-সহ আরও অনেকে। তবে এই তারকাখচিত উপস্থিতিই যেন আরও বাড়িয়ে দেয় বৈষম্যের অভিযোগ। বন্ধুদের দাবি, “আমরা বাইরে, আর সেলেবরা ভিতরে এ কেমন নিয়ম?”
গেট থেকে চুল্লি—সবখানেই বাধা (Rahul Arunoday Banerjee)
শ্মশানের গেটেই প্রথমে আটকে দেওয়া হয় বন্ধুদের। প্রতিবাদের মুখে কিছুক্ষণ পরে প্রবেশের অনুমতি মিললেও সমস্যার শেষ হয়নি। চুল্লির সামনে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা যায় একই চিত্র, তারকারা সহজেই প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন সাধারণ বন্ধুরা আবারও বাধার মুখে, এই ঘটনায় ক্ষোভ চরমে পৌঁছয়।
বন্ধুর কণ্ঠে আক্ষেপ (Rahul Arunoday Banerjee)
এক বন্ধুর কথায় উঠে আসে গভীর অভিমান, “আমরা ছোটবেলার বন্ধু, ছোট থেকে ওকে দেখছি। আমাদেরই ঢুকতে দিচ্ছে না!” আরেকজন বলেন, “গতকাল রাত থেকে আমরা আছি। আমরা দেহ নিয়ে এসেছি। আজ আমরাই বাদ!” এই বক্তব্যগুলো শুধু ক্ষোভ নয়, বরং সম্পর্কের মূল্যায়ন নিয়ে এক বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।

আরও পড়ুন: Sandy Saha: কী হয়েছিল সেই ৪০ মিনিটে… স্যান্ডির বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
বন্ধুত্বের শেষ দায়িত্ব
বন্ধুত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্তও এদিন সামনে আসে। রবিবার রাতে দুঃসংবাদ পাওয়ার পরই তালসারি থেকে ছুটে আসেন রাহুলের স্কুলের বন্ধুরা। ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ আগলে রেখে, নিজেরাই নিয়ে আসেন কলকাতায়। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁদের দায়িত্ববোধ ও আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা শেষমেশ শ্মশানের দরজায় এসে যেন থমকে যায়।



