Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নির্বাচনী সংস্কার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার (Rahul Gandhi) স্বচ্ছতা নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি লোকসভার আলোচনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রকে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে নজর আকর্ষণ করেছেন এবং প্রশ্ন করেছেন, কেন প্রধান বিচারপতিকে (CJI) এই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ করে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে চ্যালেঞ্জ (Rahul Gandhi)
রাহুল গান্ধী তিনটি মূল প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে (Rahul Gandhi) চ্যালেঞ্জ করেছেন। প্রথম প্রশ্নে তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, “আমরা কি প্রধান বিচারপতির প্রতি বিশ্বাস রাখি না?” এই প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৩ সালের নতুন আইনের ১৬ নম্বর ধারায় নির্বাচন কমিশনারদের সিদ্ধান্তকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী কমিশনারদের নেওয়া পদক্ষেপের জন্য কোনও শাস্তি আরোপ করা যাবে না। রাহুলের অভিযোগ, এই আইনের ফলে কমিশনারদের কর্তৃত্ব অতিমাত্রায় বেড়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক পক্ষপাতের সম্ভাবনা (Rahul Gandhi)
রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের দিন নির্ধারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Rahul Gandhi) প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছেন, যা রাজনৈতিক পক্ষপাতের সম্ভাবনা তৈরি করে। তিনি ভোটার তালিকায় জালিয়াতি, ইভিএমের স্বচ্ছতা এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নিয়মও প্রশ্ন করেছেন। রাহুলের দাবি, আইনের ধারা অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজ ৪৫ দিনের মধ্যে ধ্বংস করার বিধান অপ্রয়োজনীয় এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য এটি সমস্যার কারণ।

ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
এছাড়াও রাহুল ভোটার তালিকা এবং ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিহারে এসআইআর করার পরও প্রায় ১.২ লক্ষ ‘ডুপ্লিকেট’ ভোটার তালিকায় থাকছে। একই ধরনের সমস্যা মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার ভোটে ঘটেছে। রাহুল গান্ধী মনে করেন, ভোটে জালিয়াতি দেশের জন্য বড় হুমকি। তিনি ব্রাজিলের মডেল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইভিএমে স্বচ্ছতা ও নিরীক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জোর দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: MBBS: সামান্য ত্রুটির জেরে ডাক্তারি স্বপ্নভঙ্গ! হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে আশায় নাহিদ আলম
সংসদে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে কংগ্রেসের দাবিও উল্লেখযোগ্য। মণীশ তিওয়ারি বলেছেন, এসআইআর-এর জন্য কমিশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি প্রস্তাব করেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের নিয়োগের কমিটিতে প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতাকেও যুক্ত করা হোক। এছাড়া ভোটারের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে ১৮ বছরের করার আগে রাজীব গান্ধী যে নির্বাচনী সংস্কার করেছিলেন, সেটির গুরুত্বও তিনি স্মরণ করিয়েছেন।


