Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে (Rahul Tejashwi) ফের এক মঞ্চে দেখা গেল দেশের দুই তরুণ বিরোধী নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকে। বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে মহাগঠবন্ধনের আসন বণ্টন নিয়ে মতভেদ হলেও, বুধবার মুজফ্ফরপুর ও দ্বারভাঙ্গার জনসভায় দুই নেতা ফের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ (Rahul Tejashwi)
রাহুল ও তেজস্বীর এই যৌথ প্রচার সভায় বিপুল জনসমাগম (Rahul Tejashwi) হয়। দু’জনেই প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একাধিক ইস্যুতে কটাক্ষ করেন। রাহুল বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের পরে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থেমে গিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, তা কি সত্যি? প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন এই বিষয়ে চুপ?” তিনি আরও যোগ করেন, “মোদী ট্রাম্পকে ভয় পান। পরের বার যখন তিনি বিহারে আসবেন, তাঁকে বলুন-ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানো নিয়ে মিথ্যা বলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি প্রতিবাদ করেছেন কি না।”
মোদীর উন্নয়ন মডেলকে তীব্র সমালোচনা (Rahul Tejashwi)
রাহুলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তেজস্বী যাদবও মোদীর উন্নয়ন মডেলকে (Rahul Tejashwi) তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কলকারখানা খোলেন গুজরাতে, অথচ বিহারে আসেন শুধু ভোট চাইতে। বিহারের তরুণেরা কর্মসংস্থানের অপেক্ষায়, কিন্তু মোদীর মনোযোগ কেবল রাজনীতি ঘিরেই।”

কৃত্রিম পুকুর বানানোর বিতর্ক
ছটপুজো উপলক্ষে দিল্লিতে যমুনার পাশে কৃত্রিম পুকুর বানানোর বিতর্কও সভায় ওঠে। অভিযোগ, সেই ‘পানীয় জলের’ পুকুরেই প্রধানমন্ত্রীর স্নান করার কথা ছিল। রাহুল বলেন, “যেখানে সাধারণ বিহারিরা দূষিত যমুনার জলে পুজো করেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজের জন্য তৈরি করান সুইমিং পুলের মতো পুকুর। তাঁর যমুনার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই, ছটপুজোর সঙ্গেও নেই-তিনি কেবল ভোটের সম্পর্ক বোঝেন।”
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: স্মার্ট কার্ডেও গেট না খুললে, নতুন প্রযুক্তিই কি ভরসা?
লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও কটাক্ষ করে বলেন, “ভোটের জন্য প্রধানমন্ত্রী সব কিছু করতে পারেন, এমনকি ভোট পেলে মঞ্চে উঠে নাচতেও পিছপা হবেন না।” বিরোধী মহাগঠবন্ধনের দুই প্রধান মুখের এই যৌথ সভাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কয়েক মাস আগেই ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-য় রাহুল ও তেজস্বীকে পাশাপাশি দেখা গিয়েছিল, যা বিহারে বিরোধী ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এবার ভোটের প্রাক্কালে তাঁদের একত্রে জনসভা করা মহাগঠবন্ধনের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে—মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ।


