Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘হোক কলরব’ বিতর্কের পর ফের একবার পরিচালকের আসনে বসে রাজ চক্রবর্তী (Raj Subhashrees)। টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় পরিচালক বরাবরই তাঁর ছবিতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরতে ভালোবাসেন। বিতর্ক তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে তিনি এবার গল্প বলছেন রাজ্যের উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব নিয়ে। রাজ চক্রবর্তীর নতুন এই কাজ স্পষ্টতই সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে সমসাময়িক রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

রাজ-শুভশ্রীর ফ্রেমে ফেরা (Raj Subhashrees)
এই ছবির অন্যতম বড় চমক দীর্ঘদিন বাদে রাজ চক্রবর্তীর ফ্রেমে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন। টলিপাড়ার দর্শকের কাছে রাজ-শুভশ্রী জুটি মানেই বিশেষ কিছু। ‘পরিণীতা’ থেকে শুরু করে একাধিক ছবিতে এই পরিচালক-নায়িকা জুটি যে আবেগ, সৌন্দর্য এবং গল্পের গভীরতা উপহার দিয়েছে, তা আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। ফলে আবারও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাবে এই খবরেই উচ্ছ্বসিত সিনেপ্রেমীরা।
নস্টালজিয়া ও নতুন সমীকরণ (Raj Subhashrees)
এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে শুভশ্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন অঙ্কুশ হাজরা। দীর্ঘদিন পর অঙ্কুশ-শুভশ্রী জুটিকে আবার একসঙ্গে পর্দায় দেখার সুযোগ মিলছে, যা দর্শকের কাছে নিঃসন্দেহে বাড়তি আকর্ষণ। একদিকে নস্টালজিয়ার আবেশ, অন্যদিকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁদের অভিনয় এই মেলবন্ধন ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দেবে বলেই মনে করছেন টলিপাড়ার অন্দরমহল।

নামেই লুকিয়ে বার্তার ইঙ্গিত (Raj Subhashrees)
ছবির নাম ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যায় এর অন্তর্নিহিত ভাবনা। রাজ চক্রবর্তী এখানে কোনও কাল্পনিক গল্প নয়, বরং বাস্তব রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গল্প সাজিয়েছেন। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলি কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক স্বস্তি এনে দিচ্ছে, সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখছে সেই বাস্তবতাকেই সিনেমার ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।
এক ঘণ্টার শক্তিশালী স্বল্পদৈর্ঘ্য (Raj Subhashrees)
এটি কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্যের বাণিজ্যিক ছবি নয়। প্রায় এক ঘণ্টার স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির মধ্যেই রাজ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছেন। সীমিত সময়ের মধ্যে বাস্তব জীবন, আবেগ এবং রাজনৈতিক বার্তা এই তিনকে একসূত্রে গাঁথাই এই ছবির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে ইউএসপি। পরিচালক হিসেবে রাজের অভিজ্ঞতা এই জায়গাতেই তাঁর শক্তি হয়ে উঠছে।
নির্বাচন-পূর্ব রাজনীতি (Raj Subhashrees)
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির মুক্তি যে নিছক কাকতালীয় নয়, তা রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। সিনেমার মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে জনপ্রিয় পরিচালক, তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং সরাসরি রাজ্য সরকারের প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে এক ধরনের ‘সিনে মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: SIR: এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক দুই প্রাক্তন সাংসদ টুটু বোস-সৃঞ্জয়কে!
রাজনীতি ও সংস্কৃতির মিলনমঞ্চ
জানা গিয়েছে, বুধবার নন্দন-২ প্রেক্ষাগৃহে এই ছবির বিশেষ স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও আমন্ত্রিত। এই স্ক্রিনিং কার্যত সংস্কৃতি ও রাজনীতির এক যৌথ মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে, যেখানে সিনেমা হয়ে উঠবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাহক।



