Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে (Rajesh Kumar BJP) দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বড় চমক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক রাজেশ কুমারকে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ১৯৯০ ব্যাচের এই অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৯ সালে কলকাতা পুলিশের নগরপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত রাজেশ কুমারকে প্রার্থী করে বিজেপি ওই কেন্দ্রে শক্ত লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।
কেন বিজেপিকেই বেছে নিলেন? (Rajesh Kumar BJP)
এদিন কেটিভি বাংলায় একান্ত সাক্ষাৎকারে (Rajesh Kumar BJP) প্রথমেই স্পষ্ট করে দিলেন কেন বিজেপিকেই বেছে নিলেন রাজেশ কুমার। তাঁর কথায় ১৯৯০ সালে আইপিএস জয়েন করার পর থেকে তিনি জনসেবার সঙ্গেই যুক্ত আছেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। নতুন প্ল্যাটফর্মে জনসেবার সুযোগ করে দিয়েছে বিজেপি। সেইজন্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ময়দান বদল (Rajesh Kumar BJP)
রাজনীতির ময়দানে আইএএস, আইপিএস (Rajesh Kumar BJP) অফিসারদের যোগদান পলিটিক্সের ময়দানকে কতটা সমৃদ্ধ করেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি, “অনেক লোক অনেক ধরণের কাজে যুক্ত। সকলের নিজের নিজের পছন্দ আছে। অবসরের পর তারা নিজেদের মত করে কাজ করে যাচ্ছে।” এই আলোচনার মাঝেই উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। অবাঙালি বলেই কি বিজেপিতে যোগ রাজেশ কুমারের? তিনি বলেন যে, তিনি তৃণমূল ও সিপিএম সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। এর মধ্যে বাঙালি অবাঙালি বলে কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, “আমার জন্মভূমি আলাদা হলেও আমার কর্মভূমি বাংলা। আমার পূর্বপুরুষরা সকলেই বঙ্গে জন্মেছেন। আমার বাবা বঙ্গে থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছেন। বাংলার সঙ্গে আমাদের অনেকদিনের সম্পর্ক। আমার পরের প্রজন্মও এখানেই বড় হচ্ছে। বাংলাভূমিই আমার সবকিছু”

শাসকদলের অভিযোগ (Rajesh Kumar BJP)
শাসকদল একাধিকবার অভিযোগ এনেছে, বিজেপি (Rajesh Kumar BJP) বাংলার মানুষের সেন্টিমেন্ট বোঝে না। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলতেই থাকে। সকলেই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে।” জগদ্দল অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কেও অবগত তিনি। এই সাক্ষাৎকারে তার কথায় উঠে আসে জগদ্দল বিধানসভার রাস্তা, জল নিকাশি ব্যবস্থা, মহিলা সুরক্ষার ঘাটতির সমস্যার কথা।
- প্রশ্ন: কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবসাথি ছেড়ে মানুষ কেন বিজেপিকে ভোট দেবে? (Rajesh Kumar BJP)
- উত্তরে তিনি জানান যে, মানুষ ভাতার বদলে চাকরি চাইছে। শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই। মানুষ তো এই সুযোগগুলোই চায়।
- প্রশ্ন: নির্বাচনে গেলে মানুষের জন্য কী কাজ করবেন?
- উত্তর: জগদ্দলে নতুন শিল্পাঞ্চল হবে। জনগণের যা সমস্যা, তার সমাধান করা হবে।
- প্রশ্ন: মানসিকভাবে আপনি এখন নেতা না এখনও অফিসার মেন্টালিটিতেই আছেন?
- উত্তর: আমি যখন অফিসার ছিলাম তখনও আমি নিজেকে বড় মনে করিনি। আমি ভগবানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবা করেছি। আমার ট্যাগলাইন, “মেরে কুছ বাননে কে নেহি, করনে কা স্বপ্না হে” মানুষের সেবা আমি করে যেতে চাই।
- প্রশ্ন: তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছে। আপনার কী মনে হয়?
- উত্তর: কোন পদে কাকে বসানো হবে সেটা কিন্তু অনেক তথ্যের উপর নির্ভরশীল। নির্বাচন কমিশন চায় সুষ্ঠভাবে নির্বাচন হোক। সেই জন্যই এই রদবদল। নির্বাচন কমিশনের দক্ষতার উপর আমার ১% সন্দেহ নেই। অনেক রিপোর্টের ভিত্তিতে, তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজ করছে। যার যা দক্ষতা আছে, সেই অনুযায়ীই পদ পাচ্ছে। সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সকলের সাহায্য করা উচিত।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রদবদল নজর কেড়েছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোন সময় কত জন কোথায় ট্রান্সফার হচ্ছে তা কিন্তু যথাযথ ইনফরমেশনের ভিত্তিতেই কাজ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যা করছে উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসাও শোনা গেছে তার কণ্ঠে।
রাজীব কুমার সম্পর্কে তিনি জানান যে, রাজীব কুমার রাজ্যসভার সাংসদ হবার পর তিনি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভালো কাজ করার প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন বলে জানান তিনি। রাজীব কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাজেশ কুমার জানান, “প্রত্যেক সরকারের কাজকে পুলিশ অফিসাররা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। আমি নিজে নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছি। কেউ কাজ খারাপ করলে তার নামেও লেখা থাকে।”
এসআইআরকে ইস্যু করেছে তৃণমূল। এই সম্পর্কে বিজেপি প্রার্থী জানান, “সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনেই কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারা ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে বৈধ ভোটারদের অধিকারকে নিশ্চিত করতে চাইছে। খুব ভালো কাজ করছে তারা।”
এবারের নির্বাচন কী অন্যান্যবারের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হতে চলেছে?
রাজনৈতিক লড়াই থাকবেই। আমি আশা করছি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে কোথায় কত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কিভাবে নির্বাচন সংগঠিত হবে। আমি নির্বাচন কমিশনের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছি যে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে ওঁরা সফল হবে। এছাড়া, নিজের জয়ের বিষয়ে প্রার্থী রাজেশ কুমার ১০০% আত্মবিশ্বাসী। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হবেই বলে তার মত।
আরও পড়ুন: Maintenance Law Ruling: ছেলের বাবা-মায়ের দায়িত্ব পুত্রবধূর নয়!
সবশেষে ছোট্ট করে র্যাপিড ফায়ার রাউন্ডেও স্পষ্ট ও সংযত উত্তর দিলেন তিনি
- পাহাড় সমুদ্র না জঙ্গল?
- পাহাড়
- সোশ্যাল মিডিয়া না অফলাইন লাইফ?
- অফলাইন লাইফ
- রিস্ক নেওয়া না সেফ খেলা?
- পুলিশের চাকরিতেই রিস্ক, তাই রিস্ক নেব
- সবচেয়ে কঠিন কাজ—না বলা না হ্যাঁ বলা?
- আমি সত্য বলতে চাই
- এমন একটা অভ্যাস যা ছাড়তে চান?
- সেরকম কিছু নেই, আমি নিজে খুব ডিসিপ্লিনড
- এমন একটা জিনিস যা আপনাকে সবসময় মোটিভেট করে?
- মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাদের সেবা করতে মোটিভেট করে
- কঠোর না জনপ্রিয়—কেমন নেতা হতে চান?
- মানুষের সেবক হতে চাই


