Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের চেতনবাড়ি গ্রামে ছড়াচ্ছে এক অজানা আতঙ্ক (Rajganj)। ইতিমধ্যেই ১৫ জন বাসিন্দা, যাঁদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও কম নয়, আক্রান্ত হয়েছেন ‘ইঁদুর-জ্বর’-এ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম লেপ্টোস্পাইরোসিস। রোগীদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ, প্রস্রাবেও রক্ত, তীব্র জ্বর, পেশি-ব্যথা, এমনকি ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও আতঙ্কের নয়, তবে সচেতনতা জরুরি।
যেমন অচেনা, তেমনই বিপজ্জনক (Rajganj)
অনেকেই প্রথমে নাম শুনে অবাক হচ্ছেন (Rajganj)! ‘ভল্লুক-জ্বর’ কথাটা হয়তো কেউ শুনেছেন মজার ছলে, কিন্তু ‘ইঁদুর-জ্বর’? আসলে এই রোগ ছড়ায় ইঁদুর, বিড়াল, কুকুরের মতো প্রাণীর মল ও মূত্রের মাধ্যমে। বর্ষাকালে এই বর্জ্য জলে মিশে যায়, আর সেই জমা জল থেকেই ব্যাক্টেরিয়া লেপ্টোস্পাইরা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
জলপথে প্রবেশ করা মাত্র এই ব্যাক্টেরিয়া শরীরে দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথম উপসর্গ—তীব্র জ্বর ও হাত-পায়ে ব্যথা। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ ভাইরাল ফিভারের সঙ্গে বিভ্রান্তি হয়। কিন্তু সময়মতো ধরা না পড়লে রোগটি কিডনি, লিভার এবং ফুসফুস পর্যন্ত নষ্ট করে দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, খিঁচুনি হয়, এবং রোগী মৃত্যুর মুখে ঠেলে যায়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. যোগীরাজ রায়ের মতে—
“এটা মূলত পশুদের রোগ, কিন্তু মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে। ইঁদুর, বিড়াল বা কুকুরের প্রসাব যদি জমা জলে মিশে আমাদের ত্বকের ক্ষত বা শ্লেষ্মা ঝিল্লির সংস্পর্শে আসে, তবে সংক্রমণ ঘটতে পারে।”
রাজগঞ্জে সংক্রমণের উৎস (Rajganj)
চেতনবাড়ি গ্রামে একটি বড় হ্যাচারি থাকার কথাই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। স্বাস্থ্য দফতরের ধারণা, সেখানে বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা জমে থাকায় ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণীর আনাগোনা বেড়েছে। সেই ইঁদুরের মূত্র থেকেই সম্ভবত রোগটি গ্রামে ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই হ্যাচারি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বেলগাছিয়ার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও, সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের চেকরমারি গ্রামে আড়াই লাখ মুরগির বিশাল পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। বছরের পর বছর সেখানে মুরগির বিষ্ঠা জমে পাহাড়সম আকৃতি পেয়েছে। সেখান থেকে মাছি ও ইঁদুর গ্রামে ঢুকে পড়ছে, যা লেপ্টোস্পাইরোসিস ছাড়াও স্ক্রাব টাইফাসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ডা. অসীম হালদার। তবে তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা হয় এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
একই পরিবারের একাধিক জন আক্রান্ত
আক্রান্তদের মধ্যে এমন বহু পরিবার রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে একাধিক জন সংক্রমিত হয়েছেন। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে, কিন্তু জ্বর না কমায় ডাক্তার দেখানো হয়েছে। তখন রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়েছে আসল রোগ। দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- জমা জল এড়িয়ে চলুন — বর্ষায় খালি পায়ে জমা জলে হাঁটবেন না, বিশেষ করে পায়ে কাটাছেঁড়া থাকলে।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন — দূষিত জল বা হাঁস-মুরগি, পশুর সংস্পর্শে এলে হাত-পা সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
- পশুর প্রস্রাব থাকতে পারে এমন এলাকা এড়িয়ে চলুন — বাধ্য হয়ে গেলে ফিরে এসে গোসল করুন।
আরও পড়ুন : Kalna: কচু পাতার উপর উদ্ধার সদ্যজাত সন্তান
লেপ্টোস্পাইরোসিসের প্রাদুর্ভাব রাজগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা। একদিকে অপরিকল্পিত হ্যাচারি ও পোল্ট্রি ফার্ম, অন্যদিকে বর্ষার সময় জমা জল—এই দুই মিলে গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক রোগ। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।


