Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ের জন্য নয় (Rajpal Yadav), বরং আর্থিক জটিলতার কারণেই বেশি শিরোনামে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করা এই অভিনেতা এখন ঋণ, মামলা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। ঘটনাগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, একটি চলচ্চিত্রের ব্যর্থতা কীভাবে ব্যক্তিগত আর্থিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

‘আতা পাতা লাপাতা’ (Rajpal Yadav)
রাজপাল যাদব প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটি নির্মাণের জন্য তিনি মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সুদসহ ঋণের অঙ্ক ক্রমে বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি আইনি জটিলতায় গড়ায়।
মামলা ও কারাবাস (Rajpal Yadav)
ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার জেরে বিষয়টি আদালতে পৌঁছায়। ২০১৮ সালে আদালতের নির্দেশে রাজপাল যাদবকে তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার জন্য এটি ছিল বড় ধাক্কা ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় দিক থেকেই। এই ঘটনায় তাঁর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ান। সহকর্মীরা সমর্থন জানান এবং সাহায্যের আশ্বাস দেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম (Rajpal Yadav)
২০২৪ সালে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তাঁর উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে অবস্থিত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। নিলামের সময়ে জানা যায়, ৫ কোটির ঋণ সুদসহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটিতে। অর্থাৎ, সময়মতো ঋণ শোধ না করার ফলে মূল অঙ্কের দ্বিগুণেরও বেশি বোঝা তৈরি হয়েছে। এমনকি সূত্রের দাবি, কিছু আইনি ও চুক্তিগত শর্তের কারণে তিনি নিজের নির্দিষ্ট জমি বা সম্পত্তি সহজে বিক্রি করেও এই ঋণ শোধ করতে পারবেন না যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
প্রযোজনা সংস্থা ও পারিবারিক সংযোগ (Rajpal Yadav)
২০০৫ সালে রাজপাল তাঁর বাবা-মায়ের নামে ‘নবরং গোদাবরী এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’ নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। পরিবারকে যুক্ত করে সিনেমা জগতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিতই ছিল এর মধ্যে। কিন্তু চলচ্চিত্র প্রযোজনার ঝুঁকি যে কতটা বড়, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
সম্পদের পরিমাণ বনাম ঋণের চাপ
বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজপাল যাদবের মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি থেকে ৮০–৮৫ কোটির মধ্যে। তাঁর কাছে অডি ও বিএমডব্লিউ-র মতো বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে। তিনি প্রতি ছবিতে প্রায় ১ থেকে ২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন বলেও জানা যায়। তবে প্রশ্ন উঠছে যদি এত সম্পদ থাকে, তবে ঋণ শোধে সমস্যা কেন? এর উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে সম্পদের ধরন, বিনিয়োগের কাঠামো এবং আইনি জটিলতায়। অনেক সময় সম্পদের বড় অংশ স্থাবর (রিয়েল এস্টেট) বা চুক্তিবদ্ধ থাকলে তা দ্রুত নগদে রূপান্তর করা সম্ভব হয় না। উপরন্তু, সম্পত্তি যদি ব্যাঙ্কের কাছে বন্ধক থাকে, তবে মালিক তা স্বাধীনভাবে বিক্রি করতে পারেন না।



