Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বলিউডে ভূতের সিনেমা রামসে ব্রাদার্সের আগেও তৈরি হয়েছে যেমন মহল, বিস সাল বাদ, গুমনাম (Ramsay Brothers)। কিন্তু এই ছবিগুলি ছিল মূলত রহস্য-রোমাঞ্চ নির্ভর, যেখানে ভয়ের আবহ তৈরি হতো আলোকছায়া, সঙ্গীত ও সাসপেন্সের মাধ্যমে। প্রকৃত অর্থে ‘হরর’ অর্থাৎ রক্ত হিম করা আতঙ্ক, বিকট চেহারার দানব, অন্ধকার হাভেলি, বজ্রবিদ্যুৎ চেরা রাত এসবকে জনপ্রিয় ধারায় প্রতিষ্ঠা করেন রামসে ব্রাদার্স। তুলসী রামসে ও শ্যাম রামসে-সহ সাত ভাইয়ের এই প্রযোজনা-পরিচালনা দল ১৯৭০–৮০-র দশকে এক নতুন ধারার সূচনা করে, যা পরবর্তীতে বলিউডের হরর ছবির স্বতন্ত্র ব্যাকরণ তৈরি করে দেয়।

এক দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আতঙ্ক (Ramsay Brothers)
১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় দরওয়াজা। ছবির কাহিনি ঘিরে এক বিত্তশালী পরিবারের প্রাচীন হাভেলি। সেই হাভেলির একটি রহস্যময় দরজা যার ওপারে বন্দি এক ভয়ংকর দানব। বহু বছর ধরে গোপন রাখা সেই দরজা একবার খুলে গেলে শুরু হয় রক্তাক্ত হত্যালীলা। এই সরল অথচ কার্যকর কাহিনির মধ্যেই রামসে ভাইরা তৈরি করেন এক ভয়ের আবহ অন্ধকার করিডর, কুয়াশা, চিৎকার, আর হঠাৎ আবির্ভূত দানবের বিকট মুখ। সেই সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ছবিটি দর্শকের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
প্রযুক্তির অভাব, তবু ভয় দেখানোর জেদ (Ramsay Brothers)
বর্তমানের মতো উন্নত সিজিআই বা ভিএফএক্স তখন বলিউডে ছিল না। প্রস্থেটিক মেক-আপও ছিল বিরল। অথচ দানবের চেহারা এমন হতে হবে, যাতে দর্শক সত্যিই আঁতকে ওঠে এই ছিল নির্মাতাদের লক্ষ্য। এই কারণে লন্ডন থেকে আনা হয় খ্যাতনামা মেক-আপ শিল্পী Christopher Tucker-কে। তিনি আন্তর্জাতিক মানের মেক-আপ ডিজাইন করলেও, তাঁর পারিশ্রমিক ছিল বিপুল। সীমিত বাজেটের ছবির জন্য সেই খরচ বহন করা ছিল রামসে ভাইদের জন্য বড় ঝুঁকি। তবু তাঁরা পিছু হটেননি। ফলাফল? দানবের চেহারা হয়ে উঠেছিল এতটাই বাস্তব ও ভীতিকর যে দর্শকরা পর্দায় তাকিয়েই শিউরে উঠতেন। অর্থাৎ সেই ‘পকেট ফাঁকা’ করা বিনিয়োগ সার্থক হয়েছিল।
ভয় দেখানোর প্রচার কৌশল (Ramsay Brothers)
‘দরওয়াজা’ মুক্তির পর থিয়েটারে লেগে যায় ‘হাউসফুল’ বোর্ড। দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গুজব ছবিটি এতটাই ভয়ংকর যে কেউ একা বসে শেষ পর্যন্ত দেখতে পারে না। এক ডিস্ট্রিবিউটর ঘোষণা করেন, যদি কেউ থিয়েটারে একা বসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছবি দেখতে পারে, তবে তাকে নগদ দশ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু এই দুঃসাহসিক প্রচেষ্টায় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল প্রবল। তাই নাকি হলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত একটি অ্যাম্বুল্যান্স! অনেকে এটিকে নিছক পাবলিসিটি স্টান্ট বললেও, নির্মাতাদের দাবি কেউ সেই চ্যালেঞ্জ নিতে সাহস দেখাননি। সত্য-মিথ্যা যাই হোক, এই প্রচার ছবিটির চারপাশে এক রহস্যময় ‘রেপুটেশন’ তৈরি করে দেয়।

ধারার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি (Ramsay Brothers)
‘দরওয়াজা’-র সাফল্যের পর রামসে ব্রাদার্স একের পর এক হরর ছবি তৈরি করতে থাকেন। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় পুরানা মন্দির যেখানে অভিশপ্ত আত্মা ও প্রাচীন মন্দিরের গল্প দর্শকদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে আসে বিরানা। এই ছবির ‘পেত্নি’ চরিত্রটি হয়ে ওঠে কাল্ট ফিগার। রহস্য, যৌন আবেদন ও অতিপ্রাকৃত ভয়ের মিশেলে ‘বিরানা’ও বক্স অফিসে সাফল্য পায়। রামসে ভাইদের ছবিতে প্রায়শই দেখা যেত নির্জন বনভূমি, পরিত্যক্ত প্রাসাদ, বজ্রপাত-আলোকিত রাত, আর এক অদ্ভুত গথিক আবহ যা বলিউডের মূলধারার সিনেমা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।
আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
সমালোচনা বনাম জনপ্রিয়তা
সমালোচকরা অনেক সময় রামসে ব্রাদার্সের ছবিকে ‘বি-গ্রেড’ বলে তুচ্ছ করেছেন। অভিনয়, চিত্রনাট্য বা প্রযোজনার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। কিন্তু সাধারণ দর্শকের কাছে এই ছবিগুলি ছিল নির্মল বিনোদন ও রোমাঞ্চের উৎস। রামসে ব্রাদার্স প্রমাণ করেছিলেন ভয় একটি শক্তিশালী আবেগ, এবং সঠিক উপস্থাপনায় তা বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দিতে পারে। তাঁদের হাত ধরেই হিন্দি হরর সিনেমা একটি আলাদা বাজার তৈরি করে নেয়।



