Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা চলচ্চিত্র জগতে বহু প্রতীক্ষিত একটি প্রজেক্ট প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী-র জীবনী অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে ‘গুনগুন করে মহুয়া’ (Rana Sarkar)। কিন্তু শুটিং শুরু হতেই অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সেটের পরিবেশ। প্রযোজক রানা সরকার-এর এই স্বপ্নের প্রজেক্ট এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

শুটিং চলাকালীন হঠাৎ বিশৃঙ্খলা (Rana Sarkar)
শুক্রবার শুটিং চলাকালীন হঠাৎই গোলমালের সূত্রপাত। অভিযোগ অনুযায়ী, লাইট ও কেয়ারটেকার হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তি শুটিং ফ্লোরে ঢুকে এক কর্মীর উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ২০০-রও বেশি টেকনিশিয়ান যেখানে কাজ করছিলেন, সেখানে এই ধরনের অশান্তি স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
থমকে গেল শুটিং, ক্ষুব্ধ প্রযোজক (Rana Sarkar)
এই ঘটনায় অন্তত এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন প্রযোজক রানা সরকার। সমাজমাধ্যমে তিনি সরব হয়ে লেখেন, “এরা লাইট কেয়ারটেকার। আমাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক বা বিরোধ নেই। তবুও শুটিং ফ্লোরে এসে কর্মীকে মারধর করেছে! এটা সম্পূর্ণ গুন্ডাগিরি।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও প্ররোচনা থাকতে পারে বলেও তাঁর সন্দেহ।

ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Rana Sarkar)
এই ঘটনার পরেই বিষয়টি পৌঁছয় ফেডারেশনের কাছে। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন “এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন, ফেডারেশনের সদস্যরাই যদি শুটিং ফ্লোরে অশান্তি সৃষ্টি করেন, তাহলে শিল্পের নিরাপত্তা কোথায়?
আইনের চোখে কতটা গুরুতর এই ঘটনা? (Rana Sarkar)
রানা সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র একটি ঝামেলা নয়, বরং সরাসরি আইন ভঙ্গের শামিল। অনুমতি ছাড়া শুটিং ফ্লোরে প্রবেশ, কর্মীর উপর শারীরিক হামলা, কাজের পরিবেশ নষ্ট করা, এই সবকিছুই গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
টলিপাড়ায় বাড়ছে অস্থিরতা?
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে টলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়ে। শুটিং ফ্লোর, যা হওয়ার কথা সৃজনশীলতার কেন্দ্র, সেখানে যদি নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে তাহলে ভবিষ্যতে বড় প্রজেক্টগুলির উপর কি প্রভাব পড়বে? বিশেষ করে এমন একটি বায়োপিক, যা বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি তার শুটিংয়ে এই ধরনের অশান্তি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।



