Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রণজয়ের জীবনের এক কঠিন মানসিক পর্যায়ে শ্যামৌপ্তির আগমনই তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে (Ranojoy Shyamoupti Wedding)। অভিনেতার কথায়, সেই সময় তিনি গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। আচরণেও ছিল অস্থিরতা ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গেও তিনি দূরত্ব বজায় রাখতেন। ঠিক সেই সময়েই শ্যামৌপ্তি নিঃশর্তভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ান। কোনও প্রত্যাশা নয়, বরং একান্ত মানবিক সহানুভূতিই ছিল তাঁর ভরসা। বারবার সাহস জুগিয়েছেন “সব ঠিক হয়ে যাবে।” সূত্রের দাবি, রণজয়ের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিৎসা ও ওষুধের বিষয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছিলেন শ্যামৌপ্তিই। এই নিঃস্বার্থ সহায়তাই ধীরে ধীরে বিশ্বাসের ভিত গড়ে তোলে।

‘গুড্ডি’ থেকে লাদাখ—প্রেমের পথচলা (Ranojoy Shyamoupti Wedding)
সূত্রের খবর, জনপ্রিয় ধারাবাহিক গুড্ডি-র সেটেই প্রথম নিয়মিত দেখা হয়েছিল তাঁদের। যদিও পুরো প্রোজেক্ট চলাকালীন খুব একটা ব্যক্তিগত কথা হয়নি (Ranojoy Shyamoupti Wedding)। শেষ তিন মাসে হাই-হ্যালো থেকে কিছুটা বেশি আলাপচারিতা শুরু হয়। তবে সম্পর্কের আসল মোড় আসে লাদাখে একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ে। পাহাড়ি প্রকৃতির নীরবতা ও দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো এই দুই মিলেই তাঁরা একে অপরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন। দু’জনের বক্তব্যই প্রায় এক কোনও আনুষ্ঠানিক ‘প্রোপোজ’ ছিল না। সম্পর্কটি হঠাৎ করেই গভীর হয়ে ওঠে। আগে যা ছিল বন্ধুত্বের মতো, তা ধীরে ধীরে পরিণত হয় পরিণত প্রেমে।
মনস্তত্ত্বের বোঝাপড়া ও পারস্পরিক বিশ্বাস (Ranojoy Shyamoupti Wedding)
শ্যামৌপ্তির মনস্তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা রণজয়ের মানসিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়ায় কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। ব্যক্তিগত স্তরে কথা বলা শুরু হওয়ার পরই তাঁদের মধ্যে গভীর সংযোগ তৈরি হয়। দু’জনের মতে, তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ‘আরাম’ ও ‘বিশ্বাস’। অতীত সম্পর্ক বা গুজব কোনওটাই তাঁদের বিচলিত করেনি। বরং অতীত অভিজ্ঞতাকেই তাঁরা পরিণত হওয়ার শিক্ষাস্বরূপ দেখেছেন।

বিয়ের সাজে ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা (Ranojoy Shyamoupti Wedding)
সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত ভেন্যুতে বসছে বিয়ের আসর। সাজপোশাকে থাকছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন। দু’জনেই বেছে নিয়েছেন ডিজাইনার অনুশ্রী মালহোত্রার পোশাক। শ্যামৌপ্তির পরনে থাকবে লাল শাড়ি, যার আঁচলে থাকবে সোনালি গাছকৌটো কাজ। অন্যদিকে রণজয় পরবেন অফ-হোয়াইট পোশাক, জ্যাকেটে শঙ্খের মোটিফ—যা বাঙালি বিয়ের শাস্ত্রীয় ছোঁয়া বহন করে।
বাঙালি মেনুতে জমজমাট আয়োজন (Ranojoy Shyamoupti Wedding)
সূত্রের খবর, বিয়ের ভোজে থাকবে খাঁটি বাঙালি পদ। ভাত-ডাল, রণজয়ের পছন্দের বেগুনভাজা, মাটন কষা, নানা ধরনের মাছের পদ সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। ডেজার্টে থাকছে রাবড়ি ও মাখা সন্দেশ। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে বিয়ের তারিখ পরিকল্পিত ছিল না বলেই জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠরা। দিনটি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়াতেই তা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: America: মার্কিন পুলিশের গাড়ির ধাক্কা ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু
কাজই এখন অগ্রাধিকার
বিয়ের পরপরই দু’জনেই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন বলে জানা গিয়েছে। শ্যামৌপ্তির প্রথম ফিচার ফিল্মের ডাবিং চলছে। রণজয়েরও একাধিক নতুন প্রোজেক্টের আলোচনা চলছে। ফলে আপাতত হানিমুনের পরিকল্পনা স্থগিত। তবে ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, তাঁদের সম্পর্কের শক্তি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া। ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকে উঠে এসে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার সিদ্ধান্ত এই প্রেমকাহিনি তাই নিছক রোম্যান্টিক নয়, বরং গভীর মানবিকতার গল্প।



