Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার তেলেঙ্গানার নাগরকুর্নুল জেলার থাম্মানপেট অঞ্চলে নিজের পৈতৃক ভিটেতে পা রাখলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের জনপ্রিয় তারকা Vijay Deverakonda ও তাঁর সহধর্মিণী Rashmika Mandanna। বিবাহ-পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠান, গ্রামবাসীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠল স্মরণীয়।

পৈতৃক ভিটেতে প্রত্যাবর্তন (Rashmika Mandanna)
বিয়ের পর নিজের গ্রামে ফিরে আসা যেন এক বিশেষ আবেগের মুহূর্ত। থাম্মানপেটের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামবাসীদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল। নবনির্মিত পৈতৃক বাড়ির সামনে উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে বিজয়ের স্থান কতটা গভীর। দক্ষিণ ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে নাচ-গান ও ফুলের মালায় তাঁদের বরণ করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রামের প্রবীণরাও আশীর্বাদ করেন নবদম্পতিকে। এই দৃশ্য যেন এক চলচ্চিত্রের আবেগঘন অধ্যায় কিন্তু তা ছিল সম্পূর্ণ বাস্তব।
বিবাহোত্তর সত্যনারায়ণ পুজো (Rashmika Mandanna)
গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় সত্যনারায়ণ পুজো। দক্ষিণ ভারতীয় হিন্দু প্রথা অনুসারে বিবাহের পর এই পুজো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজ ও পরিবারের মঙ্গলকামনায় এই আচার সম্পন্ন করা হয়। পুজোতে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বিজয় তেলুগু ভাষায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং সকলের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তাঁর সরল ভাষণ ও বিনয়ী আচরণে আপ্লুত হন উপস্থিত গ্রামবাসীরা। তাঁর মা মাধবী দেবীর মুখেও ফুটে ওঠে গর্বের হাসি।

তারকার সামাজিক দায়বদ্ধতা (Rashmika Mandanna)
একজন শিল্পীর সাফল্য কেবল পর্দায় সীমাবদ্ধ থাকলে তা পূর্ণতা পায় না সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে প্রকৃত অর্থে মহৎ করে তোলে। এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিলেন বিজয় ও রশ্মিকা। নিজেদের গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা করেন তাঁরা। ‘দেবরাকোন্ডা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে নাগরকুর্নুল জেলার মোট ৪৪টি সরকারি স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা এই সুবিধা পাবে।
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস (Rashmika Mandanna)
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করা। অনেক সময় অর্থাভাবে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা স্কুলছুট হয়ে পড়ে। সেই সমস্যা দূর করতেই এই বৃত্তি প্রকল্পের সূচনা। এই সহায়তা শুধু আর্থিক সমর্থন নয়, এটি ভবিষ্যৎ গড়ার এক শক্ত ভিত। শিক্ষা মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গী হতে চান বিজয় ও রশ্মিকা।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
গ্রামের মানুষের মধ্যে ছিল এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। শুধু প্রিয় তারকাকে কাছে পাওয়া নয়, তাঁদের সামাজিক উদ্যোগে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা এই দুই অনুভূতির মিলনে তৈরি হয়েছে গভীর কৃতজ্ঞতা। অনেকে বলেন, “ছেলে আজ বড় হয়েছে, কিন্তু শিকড় ভুলে যায়নি।” এই মন্তব্য যেন বিজয়ের ব্যক্তিত্বের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।



