Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিজার্ভ ব্যাংকের মুদ্রানীতি সভায় রেপো রেট ঘোষণা করা হয়েছে (RBI Cut Repo Rate)। জুন ২০২৫-এ নগদ রিজার্ভ অনুপাত ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে
টানা তৃতীয়বার রেপো রেট কমাল রিজার্ভ ব্যাংক (RBI Cut Repo Rate)
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ছয় সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনল। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে এই নিয়ে টানা তিনবার রেপো রেট কমানো হল। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল দেশের আর্থিক বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা, কারণ বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে।
এই রেট কমানোর ফলে ঋণগ্রহীতারা বিশেষত গৃহঋণের ক্ষেত্রে স্বস্তি পাবেন। তবে সঞ্চয়কারীরা ও আমানতকারীরা আগামী দিনে কম রিটার্নের মুখে পড়তে পারেন।
ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিওতেও বড় ছাড় (RBI Cut Repo Rate)
এছাড়াও, RBI ব্যাংকগুলোর ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (CRR) ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৩ শতাংশ করেছে (RBI Cut Repo Rate)। এর ফলে বাজারে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণযোগ্য অর্থ ছাড়া যাবে।
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে MPC এই সিদ্ধান্ত নেয়। আগের ‘অ্যাকমোডেটিভ’ দৃষ্টিভঙ্গি বদলে এখন তারা ‘নিউট্রাল’ অবস্থান নিয়েছে। রেপো রেট কমানোর ফলে ঋণগ্রহণ এবং বিনিয়োগে উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তবে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: DIGIPIN: পিনকোডকে বিদায়! আসছে নয়া যুগের ‘ডিজিপিন’
কেন কমানো হল রেপো রেট? (RBI Cut Repo Rate)
মূল কারণ হল খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হ্রাস (RBI Cut Repo Rate)। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দেশে CPI বা ভোক্তা মূল্যসূচক কমে দাঁড়ায় ৩.২ শতাংশে, যা ২০১৯ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কম। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৩.৩ শতাংশ। খাদ্যদ্রব্যের দাম কমার ফলে CPI কমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গত তিন মাস (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল) ধরে মূল্যবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকায় এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি স্পষ্টভাবে কমায়, ভবিষ্যতেও আরও রেপো রেট কমানো সম্ভব। ফ্লেক্সিবল ইনফ্লেশন টার্গেটিং (FIT) ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, CPI-কে ৪ শতাংশের (প্লাস/মাইনাস ২ শতাংশের) মধ্যে রাখাই RBI-র লক্ষ্য।
এছাড়াও, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত ট্যারিফ সমস্যা কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, MPC মনে করছে মূল মূল্যবৃদ্ধি কম থাকবে এবং আগেভাগে রেট কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণগ্রহীতা ও সঞ্চয়কারীদের ওপর প্রভাব কী?
৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমার ফলে EBLR (এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক লেন্ডিং রেট)-এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ঋণের হার কমবে। গৃহঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের EMI-ও কমে যাবে। এটা সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। আগের রেট কমানোর পরেও বেশিরভাগ ব্যাংক তাদের রেপো-যুক্ত ঋণের হার কমিয়েছে এবং এখন আরও কমানো হতে পারে। পাশাপাশি, ব্যাংকগুলি আমানতের ওপর সুদের হারও কমাতে পারে, যার ফলে সঞ্চয়কারীদের রিটার্ন কমে যাবে।
আরও পড়ুন: BSF : পাক সীমান্তে বড় পদক্ষেপ! কাশ্মীরে গ্রামবাসীদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ বিএসএফ-র
এই রেট কমানোর ফলে বন্ড মার্কেট উপকৃত হতে পারে, কারণ সুদের হার কমলে সাধারণত বন্ডের দাম বাড়ে। ফলে সরকারী সিকিউরিটিসহ স্থির-আয় সম্পদের চাহিদা বাড়তে পারে।
ফ্লোটিং রেট লোনের ক্ষেত্রে, প্রতি লক্ষ টাকায় EMI ৮০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে, যা ঋণগ্রহীতাদের নগদ প্রবাহে স্বস্তি দেবে। তবে যারা রক্ষণশীল সঞ্চয় করেন, তাদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদের হার এখনকার প্রায় সর্বনিম্ন ২.৭ শতাংশের কাছাকাছি নামতে পারে, যা তাদের আয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
RBI-র নতুন জিডিপি ও মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস
RBI তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যবৃদ্ধি এবং জিডিপির পূর্বাভাসও প্রকাশ করেছে।
তাদের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে CPI মূল্যবৃদ্ধি কমে হবে ৩.৭ শতাংশ, যেখানে আগের পূর্বাভাস ছিল ৪ শতাংশ। ভালো বর্ষা, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী পণ্যমূল্যের হ্রাস এবং সাপ্লাই চেনের চাপ কমার ফলে এই পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
২০২৫-২৬ সালের জন্য প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস রাখা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫ ত্রৈমাসিকে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি হয়েছে ৭.৪ শতাংশ, যা গত চার ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ। পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বৃদ্ধি ছিল ৬.৫ শতাংশ, যা গত চার বছরে সবচেয়ে কম।
RBI বলেছে, “২০২৫-২৬ সালে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়ে ওঠা বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখবে। ব্যক্তিগত খরচ, ব্যাংক ও কর্পোরেটের সুস্থ ব্যালান্স শিট, সহজতর আর্থিক পরিস্থিতি ও সরকারের পুঁজি ব্যয়ের জোর এই বৃদ্ধিকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে।”


