Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Red Fort Blast 2025)। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় একটি সাদা রঙের হুন্ডাই i-20 গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ৮ জনের, গুরুতর জখম প্রায় ২০ জন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটিই ছিল হামলার মূল অস্ত্র, এবং এর স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন এক ব্যক্তি যিনি নিজেও সম্ভবত আত্মঘাতী হামলাকারী।
তদন্তে উঠে এল নতুন নাম (Red Fort Blast 2025)
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরণের আগে গাড়িতে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি চিকিৎসক ডঃ উমর, যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, ডঃ উমর কয়েক বছর আগে স্থানীয় এক মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং পরে নিখোঁজ হন। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, তিনি কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা।

ভুয়ো কাগজপত্র, একাধিকবার হাতবদল (Red Fort Blast 2025)
বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর HR26CE7624। প্রথম তল্লাশিতে এই গাড়ির মালিক সন্দেহে পুলিশ আটক করে মহম্মদ সলমন নামে এক যুবককে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC)-ও উদ্ধার হয়। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, সলমন প্রকৃত মালিক নন RC সম্পূর্ণ ভুয়ো। পরে প্রকাশ্যে আসে আরও জটিল তথ্য গাড়িটি আসলে একাধিকবার হাতবদল হয়েছে, এবং শেষবার তা বিক্রি করা হয় পুলওয়ামার তারিক নামে এক যুবককে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে। তবে গাড়িটির আসল মালিক কে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়।
আত্মঘাতী হামলা নাকি ষড়যন্ত্র? (Red Fort Blast 2025)
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এখনো বিতর্ক চলছে এটি কি আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা, নাকি অন্য কোনও বড় ষড়যন্ত্রের অংশ? কোনও জঙ্গি সংগঠন এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবুও তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলের প্রমাণ, বিস্ফোরণের ধরণ এবং ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান সবই সন্ত্রাসবাদী হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৭ বছরের পুরনো ভয় (Red Fort Blast 2025)
এই বিস্ফোরণ ঘটেছে ১০ নভেম্বর, যা অনেকে তুলনা করছেন ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের মুম্বই হামলার সঙ্গে। সময়ের এই মিল এবং হামলার ধরন দুই-ই অনেকের মনে উস্কে দিয়েছে পুরনো আতঙ্কের স্মৃতি। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের যোগ আছে কি না।
তদন্ত জোরকদমে চলছে
দিল্লি পুলিশ, এনআইএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর যৌথ টিম এখন ডঃ উমরের গতিবিধি, গাড়ির রুট ম্যাপ, এবং পুলওয়ামা কানেকশন নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা ফরেনসিক টেস্টে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল সূত্র হাতে আসবে।



