Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় সংবিধানের আত্মপ্রকাশের দিন ২৬ জানুয়ারি (Republic Day)। এই দিনটি শুধুই একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। অথচ সেই প্রজাতন্ত্র দিবসেই যদি নাগরিকের প্লেটে কী থাকবে আর কী থাকবে না, তা প্রশাসনিক নির্দেশে ঠিক করে দেওয়া হয়, তবে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ওড়িশার কোরাপুট জেলায় ২৬ জানুয়ারি আমিষ খাবার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সেই প্রশ্নই এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আদর্শগত চাপ? (Republic Day)
ওড়িশার কোরাপুট জেলার জেলাশাসকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট নির্দেশ প্রজাতন্ত্র দিবসে গোটা জেলায় মাছ, মাংস, ডিম-সহ সমস্ত আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশ স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের মাধ্যমে প্রতিটি দোকানে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন? প্রজাতন্ত্র দিবস কি কোনও ধর্মীয় উপবাসের দিন? না কি কোনও সামাজিক শুদ্ধতার উৎসব? প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞার পিছনে কোনও সুস্পষ্ট যুক্তি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
খাদ্যাভ্যাস বনাম নাগরিক স্বাধীনতা (Republic Day)
ভারতীয় সংবিধান নাগরিককে কী খাবে, কী পরবে, কী ভাষায় কথা বলবে সে বিষয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা দিয়েছে। খাদ্যাভ্যাস কোনও বিলাসিতা নয়, এটি সংস্কৃতি, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। দেশের বহু প্রান্তে বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল ও উপকূলবর্তী এলাকায় আমিষ খাবার দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। সেখানে হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় দিবসের অজুহাতে খাদ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা মানে সেই মানুষের জীবনযাত্রার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে তৃণমূলের আক্রমণ (Republic Day)
এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পরই প্রতিবাদে সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, “কবে থেকে সাধারণতন্ত্র দিবস ধর্মীয় উৎসব হয়ে গেল, যেখানে আমিষ খাবার রাখা যাবে না?” তৃণমূলের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে বিআর আম্বেদকরের সংবিধান, যেখানে ভারতকে বলা হয়েছে, সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দলের প্রশ্ন, বিজেপিশাসিত রাজ্যে একের পর এক এই ধরনের সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলির উপরও চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা, নেতাজির জন্মদিনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী
একটি প্রবণতার ইঙ্গিত?
এই প্রথম নয়। এর আগেও যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন পার্বণ ও বিশেষ দিনে আমিষ খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তখনও প্রশ্ন উঠেছিল রাষ্ট্র কি ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট জীবনধারা ও খাদ্যসংস্কৃতিকে “রাষ্ট্রীয় আদর্শ” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে? কোরাপুটের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে রাজনৈতিক মহলে।



