Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সপ্তাহান্ত মানেই অনেকের কাছে রেস্তোরাঁয় বসে প্রিয় খাবারের আস্বাদ নেওয়া (Mamata Banerjee)। কলকাতার খাদ্যরসিকদের কাছে বিরিয়ানি, চাঁপ, চিকেন বাটার মশালা কিংবা তন্দুরি চিকেন যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই চেনা আনন্দের উপরই যেন ছায়া ফেলতে শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাবে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট এখন দেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর জেরে ভবিষ্যতে শহরের বহু জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় ট্রেডমার্ক ডিশও হয়তো অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে।

বাণিজ্যিক গ্যাসে ঘাটতি (Mamata Banerjee)
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহের উপর। বিশেষ করে ইরানে সংঘর্ষ পরিস্থিতির জেরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, কারখানা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হয়। গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রান্নার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিকল্পের খোঁজে রেস্তোরাঁগুলি (Mamata Banerjee)
গ্যাসের ব্যবহার কমানোর জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতার বেশ কিছু প্রথম সারির রেস্তোরাঁ তাদের মেনুতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। যেসব খাবার তৈরিতে বেশি গ্যাস লাগে, সেগুলি আপাতত কমানো বা বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে তন্দুরে তৈরি খাবারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তন্দুরি চিকেন, চিকেন টিক্কা বা গ্রিলড আইটেমের মতো খাবার তুলনামূলক কম গ্যাসে তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি অনেক রেস্তোরাঁ এখন ইন্ডাকশন কুকার এবং ইলেকট্রিক ওভেনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। কলকাতার একটি খ্যাতনামা রেস্তোরাঁ চেনের সিইও জানিয়েছেন, তাদের হাতে মাত্র দু’দিনের মতো রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই মেনুতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। যদিও এই বিকল্প ব্যবস্থা কত দিন চলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি চাপ (Mamata Banerjee)
বড় হোটেল বা রেস্তোরাঁ চেন কিছুটা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে নিতে পারছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলির জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানি চেনের প্রতিদিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০টি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু সম্প্রতি তারা মাত্র পাঁচটি সিলিন্ডার জোগাড় করতে পেরেছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার কর্ণধার বিকল্প হিসেবে কাঠকয়লার ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবছেন। তবে সেটাও কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। কারণ কাঠকয়লা ব্যবহার করলে রান্নার সময় বাড়ে এবং উৎপাদন খরচও বেড়ে যেতে পারে।
কর্মসংস্থানের উপর সম্ভাব্য প্রভাব (Mamata Banerjee)
হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প শুধু খাদ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা। পূর্বাঞ্চলের হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনের সভাপতি সুদেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হয়, তাহলে এই শিল্পে বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্কট তৈরি হতে পারে। ইন্ডিয়া হোটেলস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় শেট্টির কথায়, গ্যাসের ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে হোটেল ও হসপিটালিটি শিল্প কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক (Mamata Banerjee)
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীহরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। এই বৈঠকে মূলত এলপিজি সরবরাহের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ঘরোয়া গ্রাহকদের উপর যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির তিন জন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে নিয়ে গঠিত এই কমিটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহের সমস্যা খতিয়ে দেখবে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (Mamata Banerjee)
এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত ইউআরএল গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, সরকারের অতিরিক্ত প্রচারের পরিবর্তে গ্যাসের দাম কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, যদি ভর্তুকি বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ অনেকটাই কমতে পারে।
আরও পড়ুন: Anuparna Roy: ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব জয়ের পর নতুন কোন গল্প বলবেন অনুপর্ণা
আমদানিনির্ভরতার বড় চ্যালেঞ্জ
ভারতে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ ব্যবহার হয় ঘরোয়া রান্নার কাজে এবং বাকি অংশ ব্যবহার হয় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সংঘাত বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার উপর। বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতির জেরে এলপিজি আমদানিও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।



