Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ বেঙ্গালুরুতে দিনের মধ্যিখানে ঘটে গেল এক সিনেমির চিত্রনাট্যের মতো লুটের ঘটনা (Robbery in Bengaluru)। আধুনিক নগরজীবনে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার নিরাপত্তা যেখানে অত্যন্ত কঠোর বলে পরিচিত, সেখানে আরবিআই আধিকারিক পরিচয়ে দুষ্কৃতীদের এই দুঃসাহসিক চক্র শহরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থারি নিয়ে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় লুট হয়েছে সাত কোটিরও বেশি টাকা, আর সেই টাকা লুট করতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত মনস্তত্ত্ব এবং প্রতারণার কৌশল।

রুটিন ডিউটির মাঝে অপ্রত্যাশিত বাধা (Robbery in Bengaluru)
বিভিন্ন ব্যাঙ্কের এটিএমে টাকা সরবরাহকারী একটি বেসরকারি সংস্থার ভ্যান নিয়মমাফিক তিনটি টাকার বাক্স নিয়ে রওনা দিয়েছিল জেপি নগরের একটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক থেকে। ভ্যানে ছিলেন চালক, কাস্টডিয়ান আফতাব এবং দুই সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী রাজন্যা ও তামাইয়া। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ জয়নগর ২ ব্লকের কাছে এসে হঠাৎই ভ্যানের পথ রুদ্ধ করে একটি হ্যাচব্যাক গাড়ি। তার পিছনে দাঁড়িয়ে একটি ইনোভা এমইউভি। এখান থেকেই শুরু হয় প্রতারণার নাটক।
পরিচয় দিয়ে ভ্যানকর্মীদের বিভ্রান্তি (Robbery in Bengaluru)
হ্যাচব্যাক থেকে নেমে আসে তিনজন ব্যক্তি। তাঁদের আচরণে ছিল চরম আত্মবিশ্বাস এবং কর্তৃত্ব। তারা নিজেদের পরিচয় দেন আরবিআই-এর অফিসার হিসেবে। অভিযোগ করেন, “আপনারা আরবিআই-এর নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। তদন্তের জন্য বক্তব্য রেকর্ড করতে হবে।” অভিজ্ঞ নিরাপত্তারক্ষীরাও তাঁদের সন্দেহ করার মতো কিছু খুঁজে পাননি। কারণ অপরাধীরা এতটাই স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে কথা বলেছিল যে রক্ষীরা নিজেরাই তাঁদের বন্দুক তুলে দেয়। এই মুহূর্তেই দুষ্কৃতীরা পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
চালকের ওপর চাপ ও পরিকল্পিত দিকনির্দেশ (Robbery in Bengaluru)
এরপর ভ্যানচালককে বলা হয়, তিনি যেন তিন কিলোমিটার দূরের নিমহাস জংশনে গিয়ে আরবিআই আধিকারিকদের অপেক্ষা করেন। চালকও নিয়মমাফিক সেই নির্দেশ মেনে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতারণার সূচনা। এমইউভি থেকে নেমে আসা দুষ্কৃতীরা জানায়, “আপনাকে আগে পুলিশ স্টেশনে যেতে হবে। আর টাকার বাক্সগুলিকে আমরা আরবিআই অফিসে জমা দিয়ে আসছি।” এই সময়ে অস্ত্রের মুখে চালককে ভয় দেখানো হয়। বাক্সগুলি আরেকটি গাড়িতে তোলা হয়, এবং কয়েক মুহূর্তেই তারা উধাও হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: Bengal: সাত পয়েন্টের স্বপ্ন দেখেও সন্তুষ্ট থাকতে হল ৩ পয়েন্টেই
জটিল ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
অভিযোগ পাওয়ার পরই বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং জানিয়েছেন,
“একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই ডেপুটি কমিশনার ও একজন জয়েন্ট কমিশনার।” প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ঘটনার আগে ভ্যানের রুট, সময় এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম না মানার সুযোগেই অপরাধীরা সুবিধা নেয়। দুষ্কৃতীরা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেই এমন প্রতারণার ফাঁদ পাততে সক্ষম হয়েছে। এটিএম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সুরক্ষা পরামর্শদাতা নিতারাজ বলেছেন, “আমাদের সংস্থার কোনও কর্মীর প্রতি সন্দেহ নেই। তদন্তেই সত্য সামনে আসবে।”



