Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করল চিন(Russia China Relation)। বেজিং জানিয়ে দিল, কোনও অবস্থাতেই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় মেনে নেবে না তারা। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদেশনীতি বিষয়ক শীর্ষ কর্তা কাজ়া ক্যালাসের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তা দেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।
ওয়াং ই বলেন, “চিন মনে করে, রাশিয়ার হার হলে বিশ্বের কৌশলগত ভারসাম্য ভেঙে পড়বে। তখন আমেরিকার একমাত্র নিশানা হয়ে উঠবে চিন।” ওয়াং দাবি করেন, বেজিং কখনও রাশিয়াকে সামরিক সাহায্য করেনি। তাঁর কথায়, “যদি চিন রাশিয়াকে সেনা সহায়তা দিত, তা হলে যুদ্ধ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।”
কূটনীতির আড়ালে ভূ-রাজনীতির সমীকরণ (Russia China Relation)
চিনের অবস্থান যে কেবল রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং গভীর কৌশলগত বার্তা, তা স্পষ্ট সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে(Russia China Relation)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হঠাৎ পরাজয় হলে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। সেই পরিস্থিতি আমেরিকার সামনে চিনকে ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ করে তোলার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশঙ্কা বেজিংয়ের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের এই অবস্থান আসলে রাশিয়ার প্রতি এক কূটনৈতিক ছায়া-সমর্থন। তারা সরাসরি সেনা বা অস্ত্র না পাঠালেও কৌশলগত ভাবে রাশিয়ার পাশে রয়েছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমি দেশগুলোর প্রচেষ্টাকে ব্যালান্স করতে চায় চিন।

সাম্প্রতিক হামলায় ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (Russia China Relation)
চিন যখন তাদের অবস্থান জানাচ্ছে, তখনই রাশিয়া নতুন করে হামলা নামিয়ে আনছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে(Russia China Relation)। শুক্রবার গভীর রাতে কিয়েভে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চালানো হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত ১৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫০টির বেশি ড্রোন। শহরের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসের ছবি ছড়িয়ে পড়ে।
এই হামলার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে। কিন্তু আলোচনা কোনও অগ্রগতি আনতে পারেনি। বরং ট্রাম্প নিজেই পরে বলেন, “পুতিনের অবস্থান দুঃখজনক ও অনড়।”
চিনা সেনা ইউক্রেন যুদ্ধে? বিতর্ক অব্যাহত (Russia China Relation)
যদিও চিন বারবার সেনা সহায়তা অস্বীকার করেছে, ইউক্রেনের তরফে বারবার অভিযোগ উঠেছে যে, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে চিনা সেনা লড়ছে (Russia China Relation)। গত বছর ইউক্রেনের ডনেৎস এলাকায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ধরা পড়ে দু’জন চিনা সেনা। এছাড়াও উত্তর কোরিয়ার সেনার উপস্থিতির অভিযোগও উঠেছে রুশ বাহিনীর পক্ষে।
২০২3 সালের সিঙ্গাপুরের ‘শাংরি লা ডায়ালগ’-এ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি বলেছিলেন, “চিনের মদতেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।” এই অভিযোগ যদিও বরাবর অস্বীকার করে এসেছে বেজিং।

আরও পড়ুন: Cancel Bangladesh Tour : বিরাট-রোহিতদের বাংলাদেশ সফরও বাতিল! বড় সিদ্ধান্তের পথে বিসিসিআই
রাশিয়ার ‘পাশে’ রইল চিন (Russia China Relation)
চিনের এই অবস্থান ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল(Russia China Relation)। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করেও চিন যেভাবে রাশিয়ার ‘পাশে’ রইল, তা স্পষ্ট করে দেয়—এই লড়াই কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্ব রাজনীতির বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে।


