Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার পাঁচটি বিমানঘাঁটিতে অতর্কিত ড্রোন হামলার জেরে ধ্বংস হয়েছে ৪১টি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম বোমারু বিমান(Russia Ukraine Conflict)। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে: পেন্টাগনের কাছ থেকে পাওয়া ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির নজরদারি তথ্যের ভিত্তিতেই ইউক্রেন এই অভিযান চালিয়েছে।
পারস্পারিক গোয়েন্দা অনুসন্ধান (Russia Ukraine Conflict)
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এবং বর্তমানে কার্যকর থাকা ‘নিউ স্টার্ট’ (New Strategic Arms Reduction Treaty) চুক্তির আওতায় আমেরিকা ও রাশিয়া নিয়মিত একে অপরের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক সম্পদের উপর পর্যবেক্ষণ চালায়(Russia Ukraine Conflict)। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশকে তাদের স্ট্র্যাটেজিক বম্বার—যেমন রাশিয়ার টিইউ-৯৫এমএস ও টিইউ-২২এম৩—এমন ঘাঁটিতে রাখতে হয় যা মার্কিন নজরদারি উপগ্রহ কিংবা জাতীয় প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ (NTM) পদ্ধতির আওতায় আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তির এই নিয়মের জেরেই রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিমানগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নীচে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হচ্ছিল। আর এই নীতিই যেন এবার রাশিয়ার বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াল।
হামলার লক্ষ্য কী? (Russia Ukraine Conflict)
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সেই তথ্যই গোপনে ইউক্রেনের হাতে পৌঁছে যায়—হয়তো মার্কিন সামরিক সূত্রেই(Russia Ukraine Conflict)। সূত্রের দাবি, গত দেড় বছর ধরে ইউক্রেন সীমান্তের ওপার থেকে রুশ ভূখণ্ডে ধীরে ধীরে ড্রোন মজুত করতে থাকে এবং সদ্য হামলা সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত রুশ পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করা এবং রাশিয়ার কৌশলগত বিমানবহরে ধাক্কা দেওয়া। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—এই হামলার জেরে কি ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি আগেই বাতিল হতে চলেছে?চুক্তির বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে রুশ শাসক ভ্লাদিমির পুতিন অতীতেও হুমকি দিয়েছেন এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর। পাঁচটি বিমানঘাঁটিতে এই ভয়াবহ ক্ষতির পরে মস্কো চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতেই পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

মুখ খোলেনি হোয়াইট হাউস (Russia Ukraine Conflict)
বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, যদি পুতিন চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান, তবে বিশ্বের দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে রণকৌশলগত স্বচ্ছতা এক ধাক্কায় শেষ হয়ে যাবে(Russia Ukraine Conflict)। তাতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে, এবং এক বিপজ্জনক অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিসরে।এই প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তা জানিয়েছেন, “চুক্তির আওতায় তথ্য বিনিময়ের নৈতিকতা ভাঙা হয়নি।

তবে কারা কীভাবে সেই তথ্য ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে তদন্ত করা হতে পারে।”এদিকে ইউক্রেনের পক্ষে এই হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বলা হলেও, প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy) আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “রাশিয়া যদি হামলা চালানো বন্ধ না করে, আমরা প্রতিটি আঘাতের জবাব দেব।”চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত, আর বিশ্ব অপেক্ষা করছে—এই ড্রোন হামলার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া কোন দিকে গড়ায়।


