Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ফের আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (Russia Ukraine War)। জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে দীর্ঘ বক্তব্যে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভারত ও চিনের মতো দেশগুলি রাশিয়ার জ্বালানি কিনে মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে। কিন্তু তার পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ভারত মূলত ইউক্রেনের পক্ষেই রয়েছে, যদিও জ্বালানি খাত নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ “ভারত-চিন রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থদাতা”
জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ কেবল জ্বালানি বিক্রির অর্থেই টিকে আছে(Russia Ukraine War)। তাঁর বক্তব্য, “ভারত ও চিন রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি করছে, আর সেই অর্থেই মস্কো যুদ্ধ চালাচ্ছে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই যুদ্ধকে শেষ করা সবচেয়ে সহজ হতে পারত, যদি বিশ্বশক্তিগুলি রাশিয়াকে সম্পদ জোগানো বন্ধ করত।
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া “ভারত আমাদের সঙ্গেই”(Russia Ukraine War)
ট্রাম্পের মন্তব্যের কিছু ক্ষণ পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলেনস্কি বলেন, “আমি মনে করি ভারত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গেই আছে। হ্যাঁ, জ্বালানি খাত নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেগুলি সামলাতে পারবেন।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করলে রাশিয়ার জ্বালানি খাত নিয়ে নয়া অবস্থান গড়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : Estonian Airspace Violation : এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন রাশিয়ার, সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিল নেটো
ইরান নিয়ে কঠোর মন্তব্য(Russia Ukraine War)
শুধু ভারতই নয়, ইরান সম্পর্কেও অবস্থান স্পষ্ট করেন জেলেনস্কি(Russia Ukraine War)। তাঁর বক্তব্য, “ইরান কখনও আমাদের পাশে থাকবে না, যেমনভাবে তারা আমেরিকার পক্ষেও থাকবে না।” এর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপ ও ভারতের সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমেই কূটনৈতিক ভারসাম্য আনা সম্ভব।
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের ইতিবাচক সুর(Russia Ukraine War)
জেলেনস্কি বলেন, তাঁর সাম্প্রতিক কথোপকথনে ট্রাম্প ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন(Russia Ukraine War)। “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেখিয়েছেন তিনি শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে সমর্থন করতে চান। আমরাও চাই দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ হোক,” বলেন জেলেনস্কি।
আরও পড়ুন : Trump On Paracetamol : ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক! প্যারাসিটামল কি সত্যিই অটিজমের কারণ?
ভারতের অবস্থান, জাতীয় স্বার্থ আগে (Russia Ukraine War)
এদিকে, ভারত বারবার জানিয়ে এসেছে রাশিয়ার সঙ্গে তার জ্বালানি বাণিজ্য কোনও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছে না(Russia Ukraine War)। পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার উত্তরে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকাও এখনও রাশিয়ার বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে। ভারতের বক্তব্য, যে কোনও বড় অর্থনীতির মতোই তারা নিজেদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে।
মার্কিন প্রশাসনের ইঙ্গিত, “শান্তির রাস্তা নিউ দিল্লির মধ্য দিয়েই”
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ উপদেষ্টা পিটার নাভারো সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, “শান্তির রাস্তা আংশিকভাবে নিউ দিল্লির মধ্য দিয়েই যায়। এই যুদ্ধ শেষ করতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণ(Russia Ukraine War)
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর ভাষা ও জেলেনস্কির কূটনৈতিক ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য দুই-ই ভারতের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে(Russia Ukraine War)। একদিকে আমেরিকা ভারতকে রাশিয়ার ‘অর্থদাতা’ বলে চিহ্নিত করছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকাকে ইতিবাচক বলছেন। এই বৈপরীত্যই প্রমাণ করছে, আগামী দিনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।


