Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ঘাসফুল ফুটেছিল শাসকদল All India Trinamool Congress-এর জয়ে সেজেছিল সন্দেশখালি (Sandeshkhali)। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। বিদ্যাধরী ও কালিন্দীর স্রোতের মতোই রাজনৈতিক সমীকরণও বদলেছে দ্রুত। ২০২৬-এর নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে সন্দেশখালি আজ শুধুই একটি কেন্দ্র নয় এটি পরিণত হয়েছে আস্থা, ক্ষোভ এবং সম্মানের লড়াইয়ের মঞ্চে।

অভিযোগ, আন্দোলন ও ক্ষোভের আগুন (Sandeshkhali)
সুন্দরবনের অন্তর্গত Sandeshkhali বারবার জাতীয় শিরোনামে এসেছে জমি দখল, নারী নির্যাতন এবং স্থানীয় মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগে। মাঝেরপাড়া, পাত্রপাড়া এই নামগুলো এখন শুধুই ভৌগোলিক চিহ্ন নয়, বরং প্রতিরোধের প্রতীক। গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ একসময় কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্য তথা দেশের রাজনীতিকে। সেই আন্দোলন কি নিছক ক্ষণিকের বিস্ফোরণ ছিল, না কি তা আজও মানুষের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে এই প্রশ্নই এখন কেন্দ্রবিন্দুতে।
নতুন মুখে পুরোনো আস্থা ফেরানোর চেষ্টা (Sandeshkhali)
এইবার শাসকদল বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদায়ী বিধায়ককে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে ঝর্ণা সর্দারকে স্থানীয় ভূমিজ কন্যা, যিনি একসময় জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তৃণমূলের দাবি, স্থানীয় মুখই ফিরিয়ে আনবে মানুষের আস্থা। “ভিত্তি থেকে উঠে আসা” প্রার্থী হিসেবে ঝর্ণা সর্দারকে সামনে এনে দল এক ধরনের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টা করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

“টাকা দিয়ে আন্দোলন” মন্তব্যে আগুন (Sandeshkhali)
প্রচারের শুরুতেই ঝর্ণা সর্দারের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর দাবি সন্দেশখালির আন্দোলন ছিল “অর্থের বিনিময়ে সাজানো নাটক”। এই মন্তব্য কার্যত আগুনে ঘি ঢেলেছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষের আবেগ ও যন্ত্রণা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিরোধীরা এটিকে “অপমান” হিসেবে তুলে ধরছে।
আবেগকে ভোটে রূপান্তরের চেষ্টা (Sandeshkhali)
বিরোধী শিবিরের প্রধান শক্তি Bharatiya Janata Party এই ইস্যুকে হাতিয়ার করতে মরিয়া। তাদের বক্তব্য মা-বোনেদের কান্না, অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘টাকার খেলা’ বলা মানে মানবিকতার অপমান। তারা চেষ্টা করছে এই আবেগকে সংগঠিত করে ভোটব্যাঙ্কে রূপান্তর করতে। সন্দেশখালির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করাই তাদের মূল কৌশল।
দুই পক্ষকেই তোপ (Sandeshkhali)
এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় Communist Party of India (Marxist)। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, শাসকদল যেমন আন্দোলনকে ‘টাকার খেলা’ বলে খাটো করছে, তেমনই বিজেপি সেই যন্ত্রণাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্য ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, প্রকৃত সমস্যা আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের জমি হারানো, নিরাপত্তাহীনতা এই বিষয়গুলোতে কোনো দলই আন্তরিক নয়।

আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
ভয়, ক্ষোভ না কি শান্তির খোঁজ?
সন্দেশখালির অন্দরে পৌঁছালে এক ভিন্ন ছবি ধরা পড়ে। নদী পেরিয়ে, খেয়াঘাট, তারপর কাঁচা রাস্তা এই দীর্ঘ যাত্রার শেষে পাওয়া যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারো চোখে আজও আতঙ্কের ছাপ, কেউ এখনো ক্ষোভে ফুঁসছেন, আবার অনেকেই চাইছেন শুধু শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন, এই বৈচিত্র্যময় মনোভাবই এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।



