Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর মাত্র একদিন। তারপরেই এসে যাবে বছরের শেষ ও সবচেয়ে আনন্দঘন উৎসব বড়দিন (Santa Claus)। ডিসেম্বর এলেই শহরের অলিগলি আলোয় ঝলমল করে ওঠে, পার্ক স্ট্রিটে ভিড় জমায় মানুষের ঢল, কেক ও চকলেটের গন্ধে ম ম করে বাতাস। তবে এই সবকিছুর মাঝেও বড়দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একজনই সান্টাক্লজ। লাল-সাদা পোশাক পরা, হাসিখুশি, দাড়িওয়ালা সেই সান্তাবুড়ো, যিনি নাকি গভীর রাতে চুপিচুপি এসে শিশুদের জন্য উপহার রেখে যান। কিন্তু আমরা আজ যেভাবে সান্টাক্লজকে চিনি, ইতিহাসে আদৌ কি তিনি তেমনই ছিলেন?

সেন্ট নিকোলাসের মানবিক কাহিনি (Santa Claus)
সান্টাক্লজ কোনও কল্পিত চরিত্র নয়, তাঁর শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। সান্টাক্লজের অনুপ্রেরণা ছিলেন সেন্ট নিকোলাস বর্তমান তুরস্কের মায়রা অঞ্চলের এক খ্রিস্টান ধর্মগুরু। তিনি ছিলেন দয়ার প্রতীক, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের নিঃশব্দ অভিভাবক। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সেন্ট নিকোলাস রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গোপনে দরিদ্রদের বাড়িতে যেতেন। জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিতেন সোনার কয়েন, অনেক সময় সেই কয়েন এসে পড়ত ঝুলিয়ে রাখা মোজার ভেতর। কোনও প্রচার নয়, কোনও কৃতিত্ব দাবি নয় নিঃস্বার্থ সাহায্যই ছিল তাঁর জীবনদর্শন। এই মানবিক কাহিনিই ধীরে ধীরে রূপ নেয় সান্টাক্লজের কিংবদন্তিতে।
লাল নয়, সবুজ আর খয়েরির পোশাক (Santa Claus)
আজকের সান্টাক্লজ মানেই লাল-সাদা পোশাক এই ধারণা কিন্তু চিরকালের নয়। প্রাথমিক যুগে সান্টাক্লজকে লাল পোশাকে দেখা যেত না মোটেই। বরং তাঁর পোশাক ছিল গাঢ় সবুজ কিংবা কখনও খয়েরি রঙের। সবুজ রঙের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এক গভীর প্রতীকী অর্থ। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে বসন্তে প্রকৃতির সবুজ হয়ে ওঠা এই পুনর্জন্মের বার্তাই বহন করত সান্টার পোশাক। বড়দিন শেষে নতুন ঋতু, নতুন জীবনের সূচনা সেই আশার প্রতীক ছিলেন সান্টাক্লজ। প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল তাঁর পোশাকের রং ও ভাবনা।

লাল-সাদা রঙের আবির্ভাব (Santa Claus)
১৮০০ সালের গোড়ার দিকে ইউরোপে সান্টাক্লজের চেহারায় আসে পরিবর্তন। ইংল্যান্ডের বিশপদের পোশাকের আদলে তাঁকে লাল ও সাদা রঙের পোশাকে আঁকা শুরু হয়। এই রঙ ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে, তবে তা তখনও সীমিত পরিসরেই ছিল। সান্টাক্লজ তখনও বিশ্বজুড়ে একই রূপে পরিচিত হননি। বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে তাঁর চেহারা ও পোশাকে ছিল ভিন্নতা।
আধুনিক সান্টাক্লজের জন্ম (Santa Claus)
আজ আমরা যে সান্টাক্লজকে চিনি, তাঁর বিশ্বজয়ী জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ কোকাকোলা। ১৯৩০ সালের কাছাকাছি সময়ে বড়দিনের বিজ্ঞাপনের জন্য বিখ্যাত শিল্পী হ্যাডেন সান্ডব্লুম-কে দায়িত্ব দেয় কোকাকোলা। সান্ডব্লুমের আঁকা ছবিতে সান্টাক্লজ হয়ে ওঠেন হাসিখুশি, স্বাস্থ্যবান, দয়ালু এক বৃদ্ধ লাল-সাদা পোশাকে, হাতে উপহার আর চোখে উষ্ণ হাসি। এই চিত্র এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বে সেটিই হয়ে যায় সান্টাক্লজের একমাত্র পরিচিত রূপ। সিনেমা, বিজ্ঞাপন, কার্ড, খেলনা সবখানেই ছড়িয়ে পড়ে সেই লাল-সাদা সান্টা।

আরও পড়ুন: Metro Rail: চিংড়িহাটায় মেট্রোর কাজে জট: রাজ্যকে ভর্ৎসনা, ডেডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট
সান্টাক্লজ আজ কী?
আজ সান্টাক্লজ শুধুই একটি চরিত্র নন। তিনি শিশুদের কল্পনার অংশ, আনন্দ ও প্রত্যাশার প্রতীক। ধর্মীয় ইতিহাস, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং আধুনিক বাণিজ্য এই তিনয়ের মিলনেই গড়ে উঠেছে আজকের সান্টাক্লজ। বড়দিন এলেই তাই আলো, কেক আর উপহারের সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসে সেই চিরচেনা প্রশ্ন সান্টাক্লজ কি সত্যিই আসবেন? হয়তো আসবেন না, কিন্তু তাঁর গল্প, তাঁর বার্তা আর তাঁর হাসি চিরকালই মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।



