Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শান্তিনিকেতন ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই পর্যটকদের আগ্রহ বহুগুণে বেড়েছে (Visva Bharati)। সেই আবহেই ‘হেরিটেজ ওয়াক’ ঘিরে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। সূত্রের খবর, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। কালোবাজারির অভিযোগকে ‘অমূলক’ বলেই দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়াতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনলাইন টিকিট বুকিং চালুর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে? (Visva Bharati)
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমটিএস স্থায়ী কর্মীদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, যেখানে প্রশাসন আধার কার্ড দেখিয়ে প্রতি টিকিট ৩০০ টাকায় অগ্রিম বুকিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছে, সেখানে এক সহকারী অধ্যাপক নাকি একই টিকিট ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছিলেন। সূত্রের দাবি, কাউন্টার থেকে আধার যাচাই ছাড়াই অগ্রিম বুকিং করে অতিরিক্ত মূল্যে পর্যটকদের হাতে টিকিট তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কাছেও ইমেল মারফত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য (Visva Bharati)
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর টিকিট একমাত্র রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার কাউন্টার থেকেই সরাসরি পাওয়া যায়। এর বাইরে অন্য কোনও মাধ্যমে টিকিট বিক্রির সুযোগ নেই। ফলে কালোবাজারির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রশাসনের মতে ‘হেরিটেজ ওয়াক’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথমে সপ্তাহে একদিন থাকলেও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে তা বাড়িয়ে সপ্তাহে তিনদিন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহ্য ও নিয়ন্ত্রণ (Visva Bharati)
কোভিড পরিস্থিতির সময় থেকেই আশ্রম এলাকায় সাধারণ পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। গত বছর ২৩ জুলাই উপাচার্যের উদ্যোগে ‘হেরিটেজ শান্তিনিকেতন’ পরিদর্শনের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়। চলতি বছরের ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘হেরিটেজ ওয়াক’। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার নির্ধারিত সময়সূচি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত গাইডের সহায়তায় পর্যটকেরা আশ্রমের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। টিকিটের মূল্য ধার্য হয়েছে সাধারণ পর্যটকদের জন্য ৩০০ টাকা এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৫০ টাকা।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence: ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে ভারতের সই, প্রযুক্তি যুদ্ধে বড় বার্তা নয়াদিল্লির
কেন বাড়ছে প্রশ্ন?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইউনেসকো স্বীকৃতির পর পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা এখনও চালু না হওয়ায় বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, পড়ুয়া, প্রাক্তনী ও প্রবীণ আশ্রমিকদের একাংশ বিজ্ঞপ্তির ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। তার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক ভাষায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ রবীন্দ্র-আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।



