Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার আধুনিক সংগীতজগতের দুই জনপ্রিয় নাম শিলাজিৎ এবং ‘চন্দ্রবিন্দু’ (Shilajit Chandrabindoo)। বহু বছর ধরে তাঁরা আলাদা আলাদা ভাবে মুগ্ধ করেছেন শ্রোতাদের। শিলাজিতের গভীর কণ্ঠ, রক–ধারার স্বাদ এবং নাটকীয়তার মেলবন্ধনে তাঁর গান যেমন আলাদা পরিচয় পেয়েছে, তেমনই ‘চন্দ্রবিন্দু’র গান বাঙালি জীবন, হাস্যরস, বিদ্রুপ, প্রেম ও দৈনন্দিনতার এক অনন্য প্রতিফলন। এই দুই ভিন্ন ধারার শিল্পী যখন একসঙ্গে মঞ্চে উঠতে চলেছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলা সংগীতের জন্য এক নতুন অধ্যায়।

একসঙ্গে প্রথম মঞ্চাভিনয় (Shilajit Chandrabindoo)
যদিও তাঁরা একসময় ‘আবোল তাবোল’ নামের একটি অ্যালবামে একসঙ্গে গান গেয়েছিলেন, সেটি ছিল স্টুডিয়োর কাজ। কোনো মঞ্চে, দর্শকের সামনে তাঁদের একসঙ্গে গাইতে দেখা যায়নি কখনও। তাই নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে চলা অনুষ্ঠান ‘X = Juju’ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। শিলাজিৎ নিজেই বলেছেন ভিন্ন দুই ধারার গানকে এক সুতোয় বাঁধা খুব সহজ নয়। তাঁদের সংগীতগত দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা, পরিবেশনা আলাদা। তবু তাঁদের মিলের জায়গা হলো নতুন কিছু করার তাগিদ। বহুদিন ধরেই তাঁরা পরিচিত গণ্ডির বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে এসেছেন। তাই এই যুগলবন্দি তাঁদের শিল্পযাত্রার ধারাবাহিকতা বলেই মনে হয়।

কোলাবরেশনের অন্তরালে ভাবনা (Shilajit Chandrabindoo)
কোলাবরেশন নিয়ে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন তাঁদের পরিকল্পনা খুব সহজ। ‘চন্দ্রবিন্দু’র জনপ্রিয় গান গাইবেন শিলাজিৎ, আর শিলাজিতের জনপ্রিয় গান গাইবে ‘চন্দ্রবিন্দু’। অর্থাৎ তাঁদের গানই থাকবে, তবে অন্য গায়ের স্বাদে। শ্রোতার কাছে এটি হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা চেনা সুর নতুন কণ্ঠে, নতুন ব্যাখ্যায়। এই ভাবনার মধ্যে শিল্প–স্বাধীনতার যে আনন্দ আছে, তা-ই এই অনুষ্ঠানের মূল শক্তি। একই সঙ্গে তাঁরা তৈরি করছেন একটি চমক যা তাঁরা মজার ছলে ‘পাঁচমেশালি চচ্চড়ি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর ভেতরে ঠিক কী আছে, তা প্রকাশ না করে তাঁরা দর্শকদের শো–তে এসে তা অনুভব করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
আয়োজকের চোখে দুই শিল্পীর মিল (Shilajit Chandrabindoo)
অনুষ্ঠানের আয়োজক তীর্থঙ্কর মজুমদারের মতে, দুই শিল্পীর নিজস্ব শিল্পভাষা আলাদা হলেও উভয়ের গানেই বাঙালির আবেগ, বিদ্রুপ, পাগলামি, প্রেম, হাস্য এবং রসিকতার উপস্থিতি রয়েছে। শুধু প্রকাশভঙ্গি আলাদা। একজন বেশি নাটকীয়, অন্যজন বেশি কথ্য রসায়নে ভরপুর। এই দুই সুর–বিশ্বকে মিশিয়ে দিলে এমন কিছু সৃষ্টি হতে পারে, যা বাংলা সংগীতের ধারায় এক নতুন দিকের সূচনা করবে।

মিলেনিয়াল থেকে জেন জি (Shilajit Chandrabindoo)
বাংলার বহু মিলেনিয়াল তাঁদের গান শুনে বড় হয়েছেন। কিন্তু নতুন প্রজন্মও গানগুলো শুনছে, সংযুক্ত হচ্ছে। অনিন্দ্যর মতে, তাঁদের গান সময়–বাঁধা নয়। ‘ভিনদেশি তারা’, ‘এইটা তোমার গান’, ‘সুইটহার্ট’, ‘জুজু’ এসব গান এখনো প্রাসঙ্গিক, হয়তো আরও বেশি। প্রেম, হৃদয়ভঙ্গ, মান-অভিমান, হালকাচালে হাসি সবই আছে তাঁরাদের সৃষ্টিতে। তাই জেন জ়ি-র সঙ্গে মিলেনিয়ালদের সংযোগের জায়গা তৈরি করতেও এই কোলাবরেশন গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: Pakistan: জঙ্গিবাদের আধুনিক সংস্করণ: ভারতবিরোধী নয়া পাক মডিউল
বাংলায় মিউজিক কালচার
অনিন্দ্য আরও একটি গভীর পর্যবেক্ষণের কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মতো এত নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অন্য কোথাও হয় না। পাড়ার অনুষ্ঠান, ক্লাবের জলসা, অফিসের শরৎকালীন উৎসব, কলেজের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, কর্পোরেট ইভেন্ট এত সাংস্কৃতিক সক্রিয়তা বাংলার সংগীতশিল্পীদের ক্রমাগত নতুন উৎসাহ দেয়। আন্তর্জাতিক ট্যুরের পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের রাজ্যে অনুষ্ঠান–পরিবেশনার সুযোগও বিস্তর। এই ধারাবাহিকতার কারণেই এমন পরীক্ষামূলক কোলাবরেশন সম্ভব হচ্ছে বারবার।



