Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে গত এক দশকে যে দুইটি নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে (Shreya Ghoshal), তারা হলেন অরিজিৎ সিং এবং শ্রেয়া ঘোষাল। বাংলা, হিন্দি থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাতেও তাঁদের কণ্ঠস্বর শ্রোতাদের মন জয় করেছে বারবার। আধুনিক প্লেব্যাক সঙ্গীতের জগতে পুরুষ কণ্ঠে অরিজিৎ যেমন প্রথম সারির পছন্দ, তেমনই নারীকণ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন শ্রেয়া ঘোষাল। কিন্তু সম্প্রতি একের পর এক মন্তব্যে এই দুই শিল্পীকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। বিশেষ করে অরিজিতের প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং সেই প্রসঙ্গে শ্রেয়ার প্রতিক্রিয়া নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে সঙ্গীতমহলে।

অরিজিৎ সিংয়ের সিদ্ধান্তে চমক (Shreya Ghoshal)
গত জানুয়ারি মাসে প্লেব্যাক জগতকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন অরিজিৎ সিং। তাঁর এই ঘোষণায় একরকম শোরগোল পড়ে যায় কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র মহলে। কারণ গত কয়েক বছরে বলিউডে প্লেব্যাক মানেই যেন অরিজিৎ এমন ধারণাই তৈরি হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পর অনেকেই অবাক হলেও কেউ কেউ তাঁর শিল্পীসত্তার স্বাধীনতাকে সম্মান জানিয়েছেন। কারণ অরিজিৎ বরাবরই নিজস্ব ছন্দে কাজ করতে ভালোবাসেন। বাণিজ্যিক সাফল্যের চেয়ে সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসাকেই তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
শ্রেয়ার মন্তব্যে নতুন জল্পনা (Shreya Ghoshal)
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল অরিজিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি জানান,
“আমারও মাঝেমধ্যে বিরতি নিতে ইচ্ছে করে। অরিজিৎ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ও মন থেকে একজন প্রকৃত শিল্পী।” শ্রেয়ার মতে, অরিজিতের কাছে গান শুধু পেশা নয়, বরং গভীর এক আবেগ। তিনি কখনও ভাবেন না গান থেকে কতটা উপার্জন হবে; বরং যেটা তাঁকে আনন্দ দেয়, সেটাই করেন। এই আন্তরিকতার কারণেই শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রেয়ার এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি তিনিও প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন?

‘লিপ সিঙ্ক’ সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ (Shreya Ghoshal)
সাক্ষাৎকারে শুধু অরিজিতের প্রসঙ্গই নয়, বর্তমান সঙ্গীত জগতের কিছু প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি জানান, অনেক সময় শিল্পীদের গান গাওয়ার বদলে ‘লিপ সিঙ্ক’ করতে বলা হয়। অর্থাৎ, আগে থেকে রেকর্ড করা গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে পারফর্ম করা। এই বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। শ্রেয়ার স্পষ্ট বক্তব্য, “যেদিন আমাকে বাধ্য হয়ে লিপ সিঙ্ক করতে হবে, সেদিনই আমি গান গাওয়া ছেড়ে দেব।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, শিল্পী হিসেবে নিজের নীতির সঙ্গে আপস করতে তিনি রাজি নন।
চটুল গানের থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত (Shreya Ghoshal)
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শ্রেয়া। তিনি জানিয়েছেন, ‘চিকনি চামেলি’র মতো অত্যন্ত চটুল বা অশালীন লিরিকসের গান ভবিষ্যতে আর গাইতে চান না। বলিউডে অনেক সময় জনপ্রিয়তার জন্য এমন গান তৈরি হয়, কিন্তু শ্রেয়ার মতে শিল্পীর নিজেরও একটি নৈতিক অবস্থান থাকা উচিত। তাই এখন থেকে তিনি বেছে বেছে গান গাইতে চান, যেগুলোতে সুর, কথা এবং আবেগের গভীরতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
বিরতি না বিদায়—কোন পথে শ্রেয়া?
এই সমস্ত মন্তব্যের পর সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে শ্রেয়া ঘোষাল কি সত্যিই প্লেব্যাক জগত থেকে বিদায় নিতে চলেছেন? তবে এখনই তেমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি তিনি। বরং তাঁর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে যে, হয়তো কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিতে চান। দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করার ফলে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক, আর সেই কারণেই হয়তো নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সময় চাইছেন গায়িকা।



