Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যরাত পেরোতেই আতঙ্ক ছড়াল উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় (Sikkim Earthquake)। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম-সহ উত্তর ভারতের বড় অংশ। কম্পনের প্রভাব পড়ে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এমনকি ভারতের সীমান্ত ছাড়িয়ে তিব্বত ও চিনের কিছু অংশেও। যদিও স্বস্তির খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

গভীর রাতে কেঁপে উঠল পাহাড় (Sikkim Earthquake)
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমিলজি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় সিকিমে। এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল গালসিং এলাকা, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫, যা মাঝারি মাত্রার হলেও পাহাড়ি এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট। প্রথম কম্পনের মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই ফের কেঁপে ওঠে গ্যাংটক সংলগ্ন এলাকা। গভীর রাতে হঠাৎ এই কম্পনে ঘুম ভেঙে আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ।
ভোর পর্যন্ত কাঁপল সিকিম (Sikkim Earthquake)
প্রথম কম্পনের পরেই থেমে থাকেনি মাটির নড়াচড়া। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সিকিমে মোট ১২ বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। গ্যাংটক, মঙ্গন, নামচি-সহ একাধিক এলাকায় একাধিকবার কম্পন টের পান স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এই আফটারশকগুলির কোনওটির তীব্রতা প্রথম কম্পনের মতো শক্তিশালী ছিল না। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

উত্তর ভারতে ছড়াল কম্পনের প্রভাব (Sikkim Earthquake)
ভূমিকম্পের প্রভাব কেবল সিকিমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখান থেকে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় রিখটার স্কেলে ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্র ১৬ মিনিট পরেই, অর্থাৎ সকাল পৌনে আটটার কিছু আগে উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলায় রিখটার স্কেলে ৩.৪ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। এই দুই ক্ষেত্রেই কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও আতঙ্ক ছড়াতে সময় লাগেনি।
কেঁপেছে তিব্বত ও চিন (Sikkim Earthquake)
এই ভূমিকম্পের প্রভাব ভারতের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছয় প্রতিবেশী দেশ চিনেও। চিনের জিনজিয়াং প্রদেশ এবং তিব্বতের কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেখানেও কম্পনের মাত্রা মারাত্মক ছিল না এবং এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
এই এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ? (Sikkim Earthquake)
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলগুলি প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণেই এই অঞ্চলে প্রায়শই ভূমিকম্প ঘটে। সিকিম, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ এই সব এলাকাই সিসমিক জোনের অন্তর্ভুক্ত, ফলে মাঝেমধ্যেই এমন কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আরও পড়ুন: Basanti Firing: প্রেমের জেরে বচসা, ঝগড়া দেখতে গিয়ে বাসন্তীতে গুলিবিদ্ধ যুবক
তবে সতর্কতা জরুরি
এই ঘটনার সবচেয়ে বড় স্বস্তির দিক হল এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একাধিক আফটারশক ভবিষ্যতে আরও কম্পনের ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই পাহাড়ি ও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।



