Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গল্পটা শুনলে প্রথমে মনে হতে পারে এ যেন কোনো রূপকথা। কিন্তু বাস্তবে তা এক ভয়াবহ সত্য। একটি এসআইআর (SIR) নোটিশ আজ তছনছ করে দিয়েছে বহু পরিবারের শান্তি, বিশ্বাস এবং দাম্পত্য সম্পর্ক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক এমন নোটিশ পৌঁছচ্ছে বাড়ি বাড়ি, যা আতঙ্কে ভরিয়ে দিয়েছে গোটা এলাকা।
নোটিশ খুলতেই চমক(SIR)
এসআইআর(SIR) নোটিশে লেখা রয়েছে, নির্দিষ্ট দিনে হেয়ারিং-এর জন্য হাজির হতে হবে। কিন্তু আতঙ্কের কারণ শুনানি নয়, আতঙ্কের কারণ নোটিশের ভেতরের তথ্য। নোটিশ খুলেই চমকে উঠছেন বাবা সহ সন্তানর। যে বাবার বাস্তবে মাত্র একটি ছেলে, নোটিশে লেখা—তাঁর নাকি আরও ছয় ছেলে রয়েছে। কোথাও আবার একই বাবার নামে নয়জন ছেলের তালিকা। আরও বিস্ময়ের বিষয়, ওই সব ছেলেই নাকি একই ব্যক্তিকে তাদের বাবা বলে দাবি করেছে।
কমিশনের ভুলে শুরু দাম্পত্য কলহ(SIR)
ইন্দ্রনারায়ণপুরের বাসিন্দা শেখ আব্দুল্লা পেশায় একজন কৃষক। স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়েই তাঁর সংসার। কিন্তু এসআইআর(SIR) নোটিশ অনুযায়ী, তাঁর নাকি ছয়টি ছেলে। এই নোটিশ শুধু প্রশাসনিক বিভ্রান্তি তৈরি করেনি, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সংসারের ভেতরেও। অনেক পরিবারেই শুরু হয়েছে দাম্পত্য কলহ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে জন্ম নিচ্ছে সন্দেহ ও অবিশ্বাস, ভাঙছে বছরের পর বছরের সম্পর্ক।

প্রবীণদের দুর্ভোগ, দায় এড়ালেন বিএলও
এই নোটিশের জেরে সমস্যায় পড়েছেন গ্রামের প্রবীণরাও। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষজন আজ কমিশনের প্রশ্নের মুখে। হঠাৎ করে বহু সন্তানের “বাবা” হয়ে ওঠার দায় তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। সমাজে সম্মান হারানোর আশঙ্কাও গ্রাস করছে তাঁদের। নোটিশ বিতরণকারী সংশ্লিষ্ট বিএলও জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যে ফর্ম দিয়েছে, তিনি শুধু সেটাই বিলি করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব কার? ভুল তথ্যের উৎস কোথায়?
আরও পড়ুন: Election Commission: বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, কড়া কমিশন: ERO ও AERO-দের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা
প্রশ্নের মুখে কমিশন
একটি কমিশনের নোটিশের ভুল তথ্য আজ ভেঙে দিচ্ছে সংসার, বিশ্বাস আর সম্পর্ক। এই ঘটনার দায় কে নেবে? কমিশনের গাফিলতির মূল্য কেন দিতে হবে সাধারণ মানুষকে? ইন্দ্রনারায়ণপুরের ঘটনা বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিয়ে।


