Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোশাল মিডিয়ার যুগে ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক সময়ই জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে (Sohini Ganguly)। বিশেষত জনপ্রিয় ইউটিউবার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ক্ষেত্রে একটি মন্তব্যও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে ইউটিউবার সোহিনী গাঙ্গুলী–কে। গর্ভধারণ, সন্তানহানি এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে আবারও তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

আগের বিতর্কের স্মৃতি (Sohini Ganguly)
সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায় আগেও একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিজের স্ফীত উদরে জগন্নাথদেবের ছবি আঁকার ঘটনা সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তোলে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত বলে সমালোচনা করেন, আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ বলেও ব্যাখ্যা দেন। এরপর তাঁর জীবনে আসে এক ভয়াবহ ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু। সেই ঘটনার পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন সোহিনী। যদিও তাঁর চিকিৎসক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পালটা বক্তব্যও দেন। ঘটনাটি নিয়েও তখন সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছিল। এই কঠিন সময়ের পর সোহিনী কিছুদিন সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন। পরে ধীরে ধীরে আবার ভিডিও ও কনটেন্ট আপলোড করতে শুরু করেন।

পডকাস্টে মন্তব্য থেকেই নতুন বিতর্ক (Sohini Ganguly)
সম্প্রতি “Real Isha Diaries” নামের একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন সোহিনী। সেখানে তিনি তাঁর গর্ভাবস্থা এবং সন্তানের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেগঘন কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে সোহিনী দাবি করেন যে তাঁর গর্ভ এবং গর্ভস্থ সন্তান “অত্যন্ত পবিত্র” ছিল। এই মন্তব্যের একটি অংশ সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেক নেটিজেন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, “তাহলে কি অন্য মায়েদের গর্ভ বা সন্তান পবিত্র নয়?” আবার কেউ কেউ মনে করেন, এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা উচিত হয়নি। কেউ কেউ তাঁকে সোশাল মিডিয়ায় কম কথা বলার এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দেন।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সোহিনী (Sohini Ganguly)
বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হন সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়। সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্যের পুরো অংশ প্রকাশ করা হয়নি। সোহিনীর দাবি, পডকাস্টে তিনি যে প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন তা ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অনুভূতির জায়গা থেকে বলা কথা। কিন্তু সেই দীর্ঘ বক্তব্যের কেবল একটি অংশ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ফলে বক্তব্যের আসল অর্থ বিকৃত হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্য কোনও মা বা তাঁদের সন্তানের অনুভূতিকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বরং যদি কেউ তাঁর কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছেন।
আরও পড়ুন: Gyanesh Kumar: কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েই বিক্ষোভ! গো ব্যাক স্লোগানের মুখে জ্ঞানেশ কুমার
বিতর্ক কমাতে ভিডিও সরানো
যে রিলস বা ক্লিপটি নিয়ে এত বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটি সোহিনীর অনুরোধেই সোশাল মিডিয়া থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও বিতর্কের রেশ পুরোপুরি থামেনি। অনেকেই এখনও এই মন্তব্যকে ঘিরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।



