Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসের ছায়ার মধ্যেও এক শিল্পীর সাহস, দর্শকদের ভালোবাসা এবং মানবিকতার এক বিরল গল্প এটাই সোনু নিগম-এর করাচি অভিজ্ঞতার সারমর্ম (Sonu Nigam)। ২০০৪ সালের সেই ঘটনাটি আজও স্মরণীয়, শুধু ভয়াবহতার জন্য নয়, বরং মানুষে মানুষে বিশ্বাসের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে। কিছু ঘটনা গল্পের মত, অনেকটা সিনেমার মত বলা চলে আপনাদের মনে আছে “কিশোর কুমার জুনিয়ার” সেখানেও এই ধরনের ছায়া নেমে এসেছিল।

হঠাৎ বিস্ফোরণে স্তব্ধ শহর (Sonu Nigam)
২০০৪ সালের ১০ মার্চ, Karachi শহরে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নিতে পৌঁছেছিলেন সোনু নিগম। শুরুতে সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক প্রেক্ষাগৃহ ভরা দর্শক, উত্তেজনা আর প্রিয় শিল্পীকে সামনে থেকে দেখার উচ্ছ্বাস। কিন্তু আচমকাই অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। প্রাণহানির খবর আসে, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সেই সময় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল, তা সহজেই অনুমেয়।
ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝেও অটল মনোবল (Sonu Nigam)
বিস্ফোরণের পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সোনু নিগম। একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর সামনে তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অনুষ্ঠান চালানো হবে, নাকি বন্ধ করা হবে? এই সংকটের মুহূর্তে তিনি দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞেস করেন তাদের কি তাড়া আছে, তারা কি নিরাপদ বোধ করছেন? উত্তরে হলভর্তি দর্শক একসঙ্গে জানান তারা থাকতে চান, গান শুনতে চান। এই প্রতিক্রিয়াই সোনুকে নতুন সাহস দেয়।

সুরে সুরে ভয়কে জয় (Sonu Nigam)
এরপর মঞ্চে ফিরে গিয়ে তিনি গাইতে শুরু করেন। ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘ম্যায় হুঁ না’, কাল হো না হো, বীর-জারা-এর জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন তিনি। বিশেষ করে ‘সুরজ হুয়া মধ্যম’ গানের সময় দর্শকদের সঙ্গে একসঙ্গে গলা মেলানোর মুহূর্ত যেন হয়ে ওঠে প্রতীকী ভয়ের বিরুদ্ধে সুরের জয়, বিভেদের বিরুদ্ধে একতার বার্তা।
“আমাকে বাঁচিয়েছিলেন পাকিস্তানিরাই” (Sonu Nigam)
পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারকান সিদ্দীকীর কথায় জানা যায়, এই ঘটনার পর প্রতি বছর সোনু তাঁকে একটি বার্তা পাঠাতেন। সেখানে তিনি লিখতেন, “আমরা সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে একসঙ্গে ফিরে এসেছিলাম। আমাকে বাঁচিয়েছিলেন পাকিস্তানিরাই।” এই স্বীকারোক্তি শুধু কৃতজ্ঞতার নয়, বরং মানবিকতার গভীর উপলব্ধির প্রকাশ।

আরও পড়ুন: Masood Brother Death: জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাইয়ের মৃত্যু: জানা যায়নি মৃত্যুর কারণ
রাজনৈতিক দূরত্ব, কিন্তু মানবিকতার সেতুবন্ধন
আজকের দিনে India ও Pakistan-এর সম্পর্ক যখন তলানিতে, তখন এই ঘটনা নতুন করে ভাবায়। যেখানে কূটনৈতিক টানাপোড়েন, সীমান্তে উত্তেজনা, এমনকি ক্রিকেট ম্যাচের আগেও সৌজন্যের অভাব সেখানে এই অভিজ্ঞতা দেখায়, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এখনও রয়েছে ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতা।



