Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতির অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই ফের (South China Sea) চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ চিন সাগরে। মাত্র অর্ধেক ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে আমেরিকার দুটি সামরিক উড়ান -একটি যুদ্ধবিমান F/A-18F Super Hornet এবং একটি MH-60R Sea Hawk হেলিকপ্টার। উভয়ই উড়েছিল মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী USS Nimitz থেকে। এমন ঘটনার পর সমুদ্রের ওপর ও নিচে রাজনৈতিক তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনা (South China Sea)
রবিবার বিকেলে দক্ষিণ চিন সাগরের আকাশে প্রথমে ভেঙে পড়ে (South China Sea) মার্কিন যুদ্ধবিমান। কিছু সময়ের মধ্যেই একই রণতরী থেকে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারটিও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে, দুটি উড়ানেই কর্মীরা নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। হেলিকপ্টারের তিন ক্রু এবং যুদ্ধবিমানের দুই পাইলট সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে। ঘটনার পরই তদন্তে নামে আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনী (US Pacific Fleet)। তাদের প্রাথমিক বক্তব্য, কীভাবে একাধিক দুর্ঘটনা এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও রহস্যের মেঘ (South China Sea)
দুর্ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি তখন টোকিও (South China Sea) যাচ্ছিলেন, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সম্ভবত খারাপ জ্বালানির কারণেই এমন হয়েছে। লুকানোর কিছু নেই।” তবে তাঁর এই মন্তব্যেও ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ, আমেরিকার নৌবাহিনী এখনও পর্যন্ত জানায়নি, ঠিক কী উদ্দেশ্যে দক্ষিণ চিন সাগরে মোতায়েন ছিল USS Nimitz।
উল্লেখ্য, এই রণতরীটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর পশ্চিম এশিয়া থেকে ফিরছিল। তখনই এই অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনা ও সন্দেহ জন্ম নিয়েছে।

চিনের প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক বার্তা
চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি নাকি সামরিক মহড়া চলাকালীন সময়ে ঘটেছে এবং মানবিক সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। তবে বেইজিংয়ের এই বিবৃতিতেও অনেকেই “কূটনৈতিক বার্তা” খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ, দক্ষিণ চিন সাগরকে ঘিরে গত দুই দশক ধরে চিন ও আমেরিকার আধিপত্যের লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আদালতের আপত্তি সত্ত্বেও চিন সেখানে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ ও সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে। আর আমেরিকা বারবার “নৌ চলাচলের স্বাধীনতা” বজায় রাখতে সেখানে টহল দেয়।
আরও পড়ুন: Cyclone Mantha: ঘূর্ণিঝড় মন্থার দাপটে কাঁপছে অন্ধ্র উপকূল, ভারী বৃষ্টি-ঝোড়ো হাওয়ায় অচল জীবন!
উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ চিন সাগর
এই সমুদ্র অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখানে দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ কোটি টাকার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। তাই সেখানে ঘটে যাওয়া প্রতিটি দুর্ঘটনাই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।


