Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পনগরীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি দুর্ঘটনা নয় এটি শিল্প নিরাপত্তা, শ্রমিক সুরক্ষা এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে (South Korea)। নিচে ঘটনাটি প্রবন্ধের আকারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল।
শিল্পনগরীতে বিভীষিকা (South Korea)
দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় শহর ডেজিয়ন-এ একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫৯ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪ জন কর্মী। শুক্রবার বিকেলে আচমকাই আগুন লাগে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। ঘটনার সময় কারখানার ভিতরে প্রায় ১৭০ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন, ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে রাতভর লড়াই (South Korea)
আগুন লাগার পরপরই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শুরুতে তারা ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। কারণ আগুনের তীব্রতায় ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সারা রাত ধরে চলে আগুন নেভানোর চেষ্টা। অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দমকল কর্মীদের এই নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বহু প্রাণহানি এড়ানো যায়নি।

আগুনের তীব্রতার মূল কারণ? (South Korea)
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানার ভিতরে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে সোডিয়াম মজুত ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০ গ্রামেরও বেশি সোডিয়াম সেখানে রাখা ছিল। সোডিয়াম অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল পদার্থ জল বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলেই তা দ্রুত জ্বলে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাসায়নিকের উপস্থিতিই আগুনকে আরও তীব্র ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তোলে।
সংকটজনক অনেকেই (South Korea)
আহত ৫৯ জনের মধ্যে অন্তত ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকিদের আঘাত তুলনামূলক কম হলেও মানসিক আঘাতও কম নয়।
নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত (South Korea)
উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজ ৪ জন কর্মীর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। ভবনের ভেতরে ধ্বংসাবশেষ এবং অস্থিতিশীল কাঠামো উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া (South Korea)
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায়।

আরও পড়ুন: Weather Kolkata: ঈদের দিন, রাতভর বৃষ্টি সঙ্গে দমকা হাওয়া, আজও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা
শিল্প নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
এই দুর্ঘটনা আবারও শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যেখানে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বিধি মানা কতটা জরুরি তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। রাসায়নিক সংরক্ষণের নিয়ম কি যথাযথ ছিল? জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? দমকল ব্যবস্থার দ্রুত প্রবেশে কী বাধা তৈরি হল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তকারীরা কাজ শুরু করেছেন।



