Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতি বছর ১৭ই নভেম্বর পালিত হয় ন্যাশনাল এপিলেপসি অ্যাওয়ারনেস ডে (National Epilepsy Awareness Day)। এ বছর ‘My Epilepsy Journey’ থিমকে সামনে রেখে মৃগী বা এপিলেপসি রোগ নিয়ে সমাজে বিদ্যমান ভুল ধারণা দূর করে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানালেন বিশিষ্ট স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডঃ সৌরভ হাজরা (MBBS MD/ DM Neuro/fellow paed neuro)।
ড. হাজরার মতে, এপিলেপসি বা মৃগী কোনো অভিশাপ বা অশুভ শক্তির প্রভাব নয়, এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য একটি স্নায়বিক রোগ (Epilepsy Myths)। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং উপযুক্ত সচেতনতার মাধ্যমেই ৭০ শতাংশের বেশি রোগী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
সিজার কী? কেন হয়?
চিকিৎসকরা জানান, সিজার বা ফিটস হলো মস্তিষ্কে অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফল। এতে রোগীর জ্ঞান হারানোর পাশাপাশি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অস্বাভাবিক নাড়াচাড়া দেখা যায়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার বা তার বেশি অপ্ররোচিত সিজার হলেই তাকে এপিলেপসি বলা হয়।
আরও পড়ুন: Instagram: ইনস্টাগ্রামে লাভ রিয়্যাক্ট থেকে রক্তারক্তি! ধূপগুড়িতে লাভ স্টোরিতে ভায়োলেন্ট অ্যাঙ্গেল
ড. হাজরা জানান, বিশ্বে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যার মধ্যে ভারতের অংশ প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ (Epilepsy Myths)। পশ্চিমবঙ্গেও এর বার্ষিক হার প্রতি এক লক্ষ জনে ৩৮–৪২। জন্মের সময় দেরিতে কান্না, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, স্ট্রোক, মাথায় আঘাত এবং রক্তে শর্করা বা সোডিয়ামের পরিবর্তন এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
কুসংস্কার নয়, প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান (Epilepsy Myths)
এপিলেপসি নিয়ে সমাজে বহু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে—যেমন এটি ছোঁয়াচে, বা রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এসব কুসংস্কার ভিত্তিহীন। আধুনিক চিকিৎসায় প্রায় সব রোগীই কর্মক্ষম এবং স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, এমনকি বিয়ে ও সন্তান ধারণ করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: Weather Update: শীতের মাঝেই বাড়তে পারে তাপমাত্রা!
ড. হাজরা আরও জানান, “সিজার চলাকালীন জুতো বা লোহার গন্ধ শুঁকলে তা থেমে যায়”—এমন ধারণা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও বিপজ্জনক। এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণে এখন ওষুধ, প্রয়োজনমতো সার্জারি এবং সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণের বিকল্প নেই (Epilepsy Myths)।

সিজারের সময় করণীয় ও বর্জনীয়
সিজার চলাকালীন রোগীর পাশে থাকা এবং তাকে সাহায্য করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। করণীয় হল:
- রোগীকে নিরাপদ স্থানে শুইয়ে মাথার নিচে নরম কিছু রাখা।
- গলার টাইট জামা ঢিলা করে দেওয়া।
- রোগীকে এক পাশে ঘুরিয়ে দেওয়া (শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য)।
- তবে মুখে কিছু ঢোকানো, জোর করে চেপে ধরা, বা সিজারের মাঝেই মুখে ওষুধ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকারক।
ড. সৌরভ হাজরা ন্যাশনাল এপিলেপসি ডে উপলক্ষে বার্তা দেন, “এপিলেপসি লুকিয়ে রাখার নয়, বুঝে এগিয়ে চলার নাম (Epilepsy Myths)। পরিবার ও সমাজ সচেতন হলে একজন রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।”


