Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ ইস্যু গত কয়েক বছর ধরেই সংবাদমাধ্যম, আদালত ও প্রশাসনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু (SSC)। একদিকে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী, অন্যদিকে এসএসসির দাবি সবই নিয়মমাফিক। এর মাঝেই বারবার আদালতের হস্তক্ষেপে থমকে যাচ্ছে নিয়োগপ্রক্রিয়া। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যখন মনে করা হয়েছিল যে নিয়োগে নতুন স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আসবে, তখনই আবার নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ।

অভিযোগের কেন্দ্রে আবারও এসএসসি (SSC)
গত শনিবার রাতে প্রকাশিত হয় একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ের তালিকা। এই তালিকার সংখ্যাটি নজর কাড়ে ১২,৪৪৫টি শূন্যপদের বিপরীতে ডাকা হয়েছে ২০ হাজার পরীক্ষার্থীকে। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পরই তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, যাঁরা আগেই নিয়োগে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের নামই আবার নতুন তালিকায় দেখা গিয়েছে। অনেকে প্রাথমিক শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে ১০ নম্বর অতিরিক্ত পেয়েছেন। অথচ চাকরিপ্রার্থীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া উচিত ছিল না। এমনকি পার্টটাইম কর্মীরাও তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে একই সুবিধা নিয়েছেন এটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা। এই অভিযোগগুলোই স্পষ্ট করে যে তালিকা প্রকাশের পর চাকরিপ্রার্থীদের আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে।

বিস্ময় ও ক্ষোভ একসঙ্গে (SSC)
চাকরিপ্রার্থীদের আরেকটি বড় অভিযোগ অনেক নতুন পরীক্ষার্থী ৭০-এর মধ্যে ৭০ নম্বর পেয়েও ইন্টারভিউয়ের তালিকায় জায়গা পাননি। এই অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন, যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের নাম করে কমিশন আবারও পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য? (SSC)
মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে দাবি করেছেন যাঁদের নিয়োগ আগেই আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছিল, তাঁরা কীভাবে আবার সাক্ষাৎকারের তালিকায় জায়গা পেলেন, তা তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে কি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে? আইনজীবীর দাবি, যদি তালিকাটি সঠিকভাবে প্রস্তুত না হয়ে থাকে, তাহলে এই তালিকার ভিত্তিতে সাক্ষাৎকার ও নথি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চললে আবারও নিয়োগে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
“সবই নিয়ম মেনে হয়েছে” (SSC)
অন্যদিকে এসএসসি দাবি করেছে সবকিছুই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে করা হয়েছে। শূন্যপদের তুলনায় ১৬ জন করে পরীক্ষার্থীকে ডাকা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮ নভেম্বর থেকে নথি যাচাই ও ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন বারবারই বলছে যে প্রক্রিয়ায় কোনও ভুল নেই। কিন্তু অভিযোগের পরিমাণ ও তীব্রতা দেখে মনে হচ্ছে, চাকরিপ্রার্থীরা এই ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট নন।
আরও পড়ুন: Donald Trump: ট্রাম্পের কঠোর নীতি! ভারতের জন্য শাপে বর, না নতুন সংকটের শুরু?
মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন
বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলার অনুমতি দিয়েছেন, যা নিয়োগ ইস্যুকে আবারও বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনছে। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, আদালত চাইলে এই তালিকার প্রকাশ, অতিরিক্ত নম্বর প্রদান, নথি যাচাই সব কিছুই খতিয়ে দেখতে পারেন। যদি তালিকা প্রস্তুতিতে অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আবারও থমকে যেতে পারে। এর ফলে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।



